পীরের ফতোয়ায় ৫০ বছর ধরে ভোট দিতে পারছেন না রূপসার নারীরা
চাঁদপুরের একটি ইউনিয়নের নারীরা ৫০ বছর ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন না। মূলত এক পীরের নির্দেশেই তারা ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন। এই ইউনিয়নে শুধুমাত্র পুরুষের ভোটেই যুগের পর যুগ ধরে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে আসছেন। সংশ্লিষ্ট দফতর নারীদের ভোটকেন্দ্রে নিতে বারবার উদ্যোগ নিলেও কাজের কাজ হচ্ছে না কিছুই।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৬ নম্বর দক্ষিণ রূপসা ইউনিয়ন। নির্বাচন কমিশনের খাতায় এই ইউপির নারী ভোটার ১২ হাজার ১শ ১৪ জন। এই বিপুল সংখ্যক ভোটার প্রতিবছর তালিকায় থাকলেও থাকে না ভোটকেন্দ্রে। পর্দার খেলাপ হবে, স্থানীয় এক পীরের এমন ফতোয়ার পর ৫০ বছর ধরে এই ইউনিয়নের নারীরা ভোট দেন না। তাদের বিশ্বাস, পীরের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করলে আক্রান্ত হতে হবে মহামারিতে। তাই জাতীয় পরিচয়পত্র নিলেও তারা আগ্রহী নন ভোটাধিকার প্রয়োগে।
ফলশ্রুতিতে জনপ্রতিনিধিদের ভাগ্য নির্ভর করে শুধু পুরুষ ভোটারদের উপর। এমনকি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্যরাও নির্বাচিত হন পুরুষদের ভোটে। পীরের আদেশ মেনে নারী প্রার্থীরা এতদিন নিজের ভোটটিও দেননি। এমনকি প্রথা মেনে ভোটকেন্দ্রে যান না এলাকার হিন্দু-খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী নারীরাও।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলছেন, নারীদের ভোটকেন্দ্রে নেয়ার চেষ্টা চললেও তাতে ফল মিলছে না। যদিও ফরিদগঞ্জ আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ড. এ কে এম মাহবুবুর রহমান জানালেন, পর্দা মেনে অন্য কাজের সঙ্গে ভোট দিতে ইসলামে কোনো বাধা নেই।
চাঁদপুরের এ ইউনিয়ন পরিষদে ভোটার প্রায় ২৫ হাজার। ৫ জানুয়ারি ভোট নেয়া হবে এই ইউপিতে।