ঢাকা,  শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

যৌবন হারাচ্ছে মেঘনা

আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:০৯, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১
যৌবন হারাচ্ছে মেঘনা
আশুগঞ্জ বন্দরে অনিয়ম, সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে মেঘনা নদী

এক সময় মেঘনা নদীর ছিল ভরা যৌবন। ইজারাদারদের বাঁশের জেটি ও বালু দখলের কারণে বর্তমানে সেই যৌবন হারাতে বসেছে মেঘনা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদীর তীরে এসে এখন আর কেউ প্রকৃতি দেখে না। এখানে দেখা যায় বালু দখল আর বাঁশ দিয়ে জেটি তৈরির কর্মযজ্ঞ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে বিলীন হয়ে যাবে পুরো মেঘনা নদী। দখলবাজি রোধে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেঘনা নদীকে কেন্দ্র করে আশুগঞ্জে গড়ে ওঠা বন্দরের পাশের অনেকখানি এলাকা এখন চলে গেছে ইজারাদার মো. জিতু মিয়াসহ কয়েকজন প্রভাবশালীর দখলে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বাঁশের জেটি নির্মাণ, অপরিকল্পিতভাবে পণ্য আনা-নেয়া, বালু ফেলে নদী দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে ইজারাদার জিতু মিয়ার বিরুদ্ধে।

আরো জানা গেছে, টাকার বিনিময়ে এসব অনিয়মে জিতু মিয়াকে সহায়তা করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা। সম্প্রতি লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি চোখ এড়ায়নি কারো। এ কারণে কমেনি বালু তোলা কিংবা নদী দখলের মতো অপরাধও। এদিকে অবাধে বালু তোলা, বাঁশের জেটি নির্মাণ, দখলবাজির কারণে হুমকির মুখে পড়েছে নদীর তিনটি সেতু। মেঘনাও হারাতে বসেছে তার যৌবন।

মেঘনা নদীর তিনটি সেতুর পাশে নির্মাণ করা হয়েছে বাঁশের জেটি। এতে হুমকির মুখে পড়েছে সেতুগুলো

জানা গেছে, এক বছরের জন্য (১ জুলাই ২০২০ থেকে ৩০ জুন ২০২১) মেঘনা নদীর আশুগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে আশুগঞ্জ সার কারখানার দক্ষিণের লঞ্চঘাট পর্যন্ত জায়গাটুকু ৭৮ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছে জিতু মিয়া। এরপর থেকেই বন্দর ও সেতু সংলগ্ন মেঘনা নদীতে চলছে অবৈধ ও অপরিকল্পিত বাঁশের জেটি নির্মাণ, বালু ফেলে নদী ভরাটের কাজ। কয়েকদিনের ব্যবধানে বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে চারটি জায়গা। তিনটি সেতুর নিচের পিলারের সঙ্গে নির্মাণ করা হয়েছে বেশ কয়েকটি বাঁশের জেটি। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ আশুগঞ্জ অফিস সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ বাঁশের জেটিগুলো থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা তুলছে জিতু মিয়ার লোক জাহিদ ও কামাল। পরে সেই টাকা ভাগাভাগি হচ্ছে জিতু মিয়া ও বিআইডব্লিউটিএর অসাধু কর্মকর্তাদের মাঝে।

জিতু মিয়ার বাঁশের জেটি ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাহাজ থেকে যেকোনো পণ্য নামাতে বস্তাপ্রতি এক টাকা ১৫ পয়সা করে দিতে হয়। এতে গড়ে একেকটি জাহাজ থেকে ২৫-৫০ হাজার টাকা ওঠে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ইজারাদার মো. জিতু মিয়া জানান, বাঁশ দিয়ে জেটি নির্মাণের অনুমতি নেয়া হয়নি। জেটি থেকে টাকা তুলে ভাগাভাগির বিষয়টিও স্বীকার করেন তিনি।

বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক ও আশুগঞ্জ নদী বন্দরের কর্মকতা শহিদ উল্লাহ জানান, মেঘনার সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। কৃষকদের সার মজুত থাকায় কিছু জায়গায় অভিযান চালানো হয়নি। তবে মজুত করা সার সরিয়ে নিতে তাদের সময় দেয়া হয়েছে। আবারো অভিযান চালানো হবে।

ইজাদারের সঙ্গে লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি জানান, যাদের অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে তারাই এমন অভিযোগ করছে। আশুগঞ্জ বন্দরকে ঘিরে কোনো অবৈধ লেনদেন হচ্ছে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!