সরকার ৫ বছরে সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়নে খেলার মাঠ বানাবে
খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরি করবে সরকার। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
শনিবার দুপুরে রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে ভলিবল ও হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
আমিনুল হক বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ৩ থেকে ৮ বিঘা খাসজমি সংস্কার করে খেলার মাঠ গড়ে তোলা হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও তরুণ-তরুণীদের জন্য মাঠগুলো উন্মুক্ত থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সারাদেশে জেলা স্টেডিয়াম আধুনিকায়ন ও সংস্কারের উদ্যোগও নিয়েছে সরকার। এর আওতায় আট বিভাগের স্টেডিয়ামে ইনডোর সুবিধা ও সুইমিংপুল স্থাপনসহ সংস্কারকাজ হবে। প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সংকট দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আমিনুল হক।
ক্রীড়া খাতে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয় বেশ কয়েকটি কমিটি করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফেডারেশনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আছে। মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। প্রতিটি ক্রীড়া সংস্থা ও ফেডারেশনকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে এবং দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, ব্যাডমিন্টন, আর্চারি ও শুটিংসহ ১৫টি ইভেন্ট নিয়ে ক্রীড়া ক্যালেন্ডার তৈরি করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বছরজুড়ে বয়সভিত্তিক ও সিনিয়র পর্যায়ের খেলোয়াড়েরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় সরকার।
আমিনুল হক বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে চায় সরকার।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম আসর সফলভাবে শেষ হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খুলনা থেকে একযোগে ৫০৩টি উপজেলায় দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করবেন। প্রথম আসরে অংশ নেওয়া ৩০৬ জনের মধ্যে থেকে ৪০ জনকে বাছাই করে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) স্থায়ীভাবে পড়াশোনার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে স্নাতক পর্যন্ত পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের পূর্ণাঙ্গ খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলা হবে।