ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বগুড়ায় সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে পুরুষশূন্য গ্রাম 

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ১৮:৩২, ২৮ অক্টোবর ২০২০
বগুড়ায় সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে পুরুষশূন্য গ্রাম 
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলার মাথাইল চাপড় গ্রামটি সন্ত্রাসীদের অত্যাচার, নির্যাতন ও ভয়ে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। 

বুধবার এলাকার শতাধিক নারী জানান, রাতের আঁধারে দেশীয় অস্ত্র হাতে গ্রামের অলিগলিতে মহড়া দিয়ে চলছে সন্ত্রাসীরা। ফলে স্ত্রী ও অবুঝ শিশু সন্তানরা অসহায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। বাড়িতে স্বামী না থাকার সুযোগে ঘরে ঢুকে নারীদের ভয়ভীতি ও শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করা হচ্ছে। 

শাজাহানপুর থানা ও ডিসি বরাবর অভিযোগ দায়ের করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।

Advertisement

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সন্ত্রাসীদের ভয়ে ভুক্তভোগী নারীদের ছেলে-মেয়ে ও স্বামী ভয়ে পলাতক রয়েছেন। সন্ত্রাসীদের জিম্মি দশা থেকে মুক্তি ও সন্তানদের ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নারীরা। 

জানা য়ায়, উপজেলার রানীরহাট এলাকার সন্ত্রাসী হযরতের ছত্রছায়ায় স্থানীয় সাগর বাহিনীর সদস্য সন্ত্রাসী মনির হোসেন, ইউসুফ হোসেন, ইস্রাফিল হোসেন, পিন্টু মিয়াসহ তাদের সহযোগীরা পুরো মাথাইল চাপড় গ্রামসহ আশপাশে আধিপত্য গড়ে তুলেছেন।  

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ৪ এপ্রিল এলাকায় খুন হয় ইউসুফ প্রামাণিকের ছেলে বিদেশ ফেরত আবু বকর সিদ্দিক। এই ঘটনাকে পুঁজি করে আসামি বাণিজ্যে নেমে পড়ে এই সন্ত্রাসী বাহিনী। হত্যা মামলায় আসামি করার ভয় দেখিয়ে তারা এলাকায় চাঁদাবাজিতে নেমে পড়ে। চাঁদার টাকা দিতে না পারায় ফিরোজ খানের দুই ছেলে পারভেজ এবং রাসেলকে আসামি করে। 

বুধবার রাতে দেশীয় অস্ত্রসহ ফিরোজ খানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দরজা জানালা ভাঙচুর করে। প্রায় রাতেই সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পাড়ার ভেতরে মহড়া দেয় এবং মোড়ে মোড়ে মাদক সেবন করে। 

এসব ঘটনায় রাসেলের মা চায়না বেগম শাজাহানপুর থানা, ইউএনও ও বগুড়ার ডিসি বরাবরে প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই হত্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য শাবরুল কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুস সালামের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা, শফিকুল ড্রাইভারের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা চাঁদা নেয়।

শাবরুল ছোট হিন্দু পাড়া গ্রামের পরিমলের ছেলে সুমনের কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করে। পরে তা দিতে না পারায় সুমনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। সন্তানকে বাঁচাতে গরু, ছাগল ও স্বর্ণালংকার বিক্রি করে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনে সুমনের বাবা পরিমল চন্দ্র। পরে ভয়ে সুমন তার ছোট ভাই গৌরাঙ্গ, স্ত্রী এবং ৪ বছরের সন্তানকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়।

সম্প্রতি পুলিশি সহযোগীতায় তারা গ্রামে ফিরে আসলেও সন্ত্রাসীদের নেয়া সেই টাকা এখনো উদ্ধার হয়নি। 

স্থানীয় সহিদুল ইসলামের স্ত্রী ফেরদৌসি খাতুন বলেন, চাঁদা দিতে না পারায় সন্ত্রাসীরা রাতে ঘরে প্রবেশ করে অশালীন আচরণ করে। 

এ ব্যাপারে হযরতের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগী নারীরা জানান, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পালিত এই সন্ত্রাসীদের ভয়ে তাদের স্বামী ও ছেলেরা গত সাত মাস ধরে বাড়িতে আসতে পারছেন না। সন্তানের মুখ দেখতে পারছেন না। সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। 

শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দীন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

বগুড়ার ডিসি মো. জিয়াউল হক বলেন, বিষয়াট জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!