ঢাকা,  বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ক্লিনিকের বিল পরিশোধ করতে না পেরে সন্তান বিক্রি করলেন মা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ০০:০৬, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
ক্লিনিকের বিল পরিশোধ করতে না পেরে সন্তান বিক্রি করলেন মা
ডিসির হস্তক্ষেপে নবজাতককে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়া হয় (ছবি: সংগৃহীত)

ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনে জন্ম নেয়া এক নবজাতককে বিক্রি করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। সিজারিয়ান অপারেশনের ১৬ হাজার টাকার বিল পরিশোধ করার সামর্থ্য না থাকায় আদরের সন্তানকে বিক্রি করে দেন বাবা-মা। এরপর কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি যান তারা।

১৭ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা শহরের যমুনা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নবজাতককে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়া হয়। মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়ার পর শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিয়েছেন গাইবান্ধার ডিসি আব্দুল মতিন।

আরো পড়ুন: প্রেম করে বিয়ে, এক বছর পর স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিশুটির মা আঙ্গুরি বেগম ও তার সন্তানের চিকিৎসাসহ আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। সদর উপজেলার ঘাগোয়া ইউপির শোলাগাড়ি গ্রামের শাহজাহান মিয়ার বাড়িতে গিয়ে এসব সহায়তা দেন ডিসি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সদর ইউএনও প্রসুন কুমার চক্রবর্তী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদুর রহমান, পিআইও আনিছুর রহমান ও গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক আবেদুর রহমান স্বপন প্রমুখ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলার ঘাগোয়া ইউপির শোলাগাড়ি গ্রামের দিনমজুর শাহজাহান মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগমের প্রসবব্যথা উঠলে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে ১৩ সেপ্টেম্বর শহরের যমুনা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনে কন্যাসন্তান জন্ম দেন আমেনা। ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্লিনিকে ভর্তি থাকেন তিনি। রিলিজের সময় ক্লিনিকের বিল আসে ১৬ হাজার টাকা।

ওই টাকা পরিশোধ করার সামর্থ্য ছিল না শাহজাহান মিয়ার। এ অবস্থায় নবজাতককে সাদুল্লাপুর উপজেলার মনোহোরপুর গ্রামের এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে বিক্রি করে ক্লিনিকের বিল পরিশোধ করেন। কিন্তু সন্তান বিক্রির পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন মা। অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় পড়ে প্রতিদিন কাঁদছিলেন ওই মা।

আরো পড়ুন: মেয়েকে সিগারেট আনতে পাঠিয়ে বান্ধবীকে ধর্ষণচেষ্টা

শনিবার বিকেলে গাইবান্ধার ডিসি মো. আবদুল মতিন বিষয়টি জানতে পারেন। পরে ইউএনও প্রসুন কুমার চক্রবর্তী ও এনডিসি এসএম ফয়েজ উদ্দিনকে সন্তান বিক্রি করা মা-বাবার কাছে পাঠান। পরে তাদের কাছ থেকে সন্তান গ্রহণকারীর পরিচয় জেনে ওইদিন রাতে সন্তানটিকে তাদের জিম্মায় নেন।

একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সন্তান গ্রহণকারী ব্যক্তির ১৬ হাজার টাকা পরিশোধ করে দেয়া হয়। সেখান থেকে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি দল শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে মায়ের কোলে তুলে দেন। বুধবার তাদের সহায়তা দেয়া হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!