গ্যাস না পেয়ে তিনদিন ধরে লাকড়ির চুলায় রান্না
হাতে লাকড়ি নিয়ে তাড়াহুড়ো করে কোথাও হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী। বললেন, দুপুর পার হয়ে যাচ্ছে এখনো খাবার রান্না হয়নি। লাকড়ির চুলায়ই রান্না করতে হবে। নইলে ছেলে-মেয়েরা না খেয়ে থাকবে।
সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদের আশপাশ ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানায়, গ্যাস সংযোগ বন্ধ, ৩ দিন ধরে এভাবেই তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করছে তারা।
তাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের মাইকিং, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে তিতাস। তাই ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকার মানুষ বাধ্য হয়ে লাকড়ি, খড়কুটোসহ বিকল্প ব্যবস্থায় রান্না করছে।
তল্লা এলাকার গৃহিণী রেহানা আক্তার জানান, গ্যাস নাই, রান্না তো থেমে থাকে না। যেভাবেই পারছি লাকড়ি-খড়কুটো জোগাড় করে রান্না করতে হচ্ছে। কেন বন্ধ-কবে খুলবে তাও জানা নাই। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তিতাসের ফতুল্লা শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনার আলামত রক্ষায় ওই এলাকার দুইটি গ্যাস বাল্ব বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা আজকে লাইন খোলার চেষ্টাও করেছিলাম, কিন্তু তদন্ত সংশ্লিষ্টরা করতে দেয়নি।
মাইকিং-এর বিষয়ে তিনি বলেন, সবাই বিষয়টি জানে, তাই মাইকিং করার দরকার হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস সংযোগ চালু করার নিশ্চয়তাও দেয়া যাচ্ছে না।
শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিমতল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে এসি বিস্ফোরণ হয়। মুহূর্তে মসজিদের ভেতরে থাকা ৩৭ জন দগ্ধ হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যু হয়।
বিস্ফোরণে প্রাণহানী ও দগ্ধের ঘটনায় শনিবার সকালে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা হয়েছে। এতে অবহেলাজনিত কারণে বিস্ফোরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন ফতুল্লা থানার এসআই হুমায়ুন। এছাড়া বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিস, তিতাস গ্যাস, ডিপিডিসি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন চারটি কমিটি গঠন করেছে। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকেই মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটেছে।