হাসপাতালের ভেতরেই রোগীর মেয়ের শ্লীলতাহানি, ওয়ার্ডবয়কে গণপিটুনি
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর মেয়েকে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ডবয় আবুল বাশারের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নারী ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্যান্য রোগী ও তাদের স্বজনরা ওই ওয়ার্ডবয়কে হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই দেয়। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।
যৌন নির্যাতনকারী আবুল বাশার চান্দিনা উপজেলার কালেমসার গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ওয়ার্ডবয়।
হাসপাতালের ২১ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন কুলছুম বেগম বলেন, গত ৩১ আগস্ট চিকিৎসার জন্য চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হই। আমার দেখাশোনা করতে বড় মেয়েও সঙ্গে ছিল। মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে ওয়ার্ডবয় আবুল বাশার মেয়েকে ঝাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে। মেয়ের চিৎকারে রোগীদের ঘুম ভাঙলে ওই ওয়ার্ড বয় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় অন্যান্য রোগীর স্বজনরা এসে তাকে গণধোলাই দেয়। ওই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
একই কক্ষে থাকা রোগী শাহিনা আক্তার জানান, রাতে ওয়ার্ডে লাইট জ্বালানো থাকে। মঙ্গলবার রাত ১১টার পর ওই ওয়ার্ডবয় এসে লাইট বন্ধ করে দিয়ে সবাইকে ঘুমাতে বলে চলে যায়। রাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ চিৎকার শুনে ঘুম ভাঙলে দেখি, ওয়ার্ডবয় দৌড়ে চলে যাচ্ছে। এ সময় মেয়েটির মা পেছন থেকে ওই ওয়ার্ডবয়কে আটক করলে ওয়ার্ডবয় পালাবার চেষ্টা করে।
হাসপাতালের রোগী ও স্বজনরা অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মহিলা ওয়ার্ডে নারীরা ঘুমিয়ে পড়লে শরীরে কাপড়-চোপড় অনেক সময় ঠিক থাকে না। মহিলা ওয়ার্ডে পুরুষদের আসাই তো ঠিক না। এছাড়া হাসপাতালেই যদি নারীদের সুরক্ষা না থাকে তাহলে আর কোথায় নিরাপদ থাকবো? এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
ওয়ার্ডবয় আবুল বাশার জানান, রাত ৮টা থেকে আমার ডিউটি ছিল। রাত ১২টার সময় ঘুমিয়ে পড়ি। হঠাৎ চিৎকার শুনে বের হলে তারা (রোগী ও তাদের স্বজনরা) আমাকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার উল্যাহ্ জানান, রোগীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ব্যাপারে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি) ডা. হাছিনা আক্তারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চান্দিনার ওসি শামস উদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, প্রাথমিক তদন্তে যৌন হয়রানির বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইউএনও বিভীষণ কান্তি দাশ জানান, তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।