ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কুড়িগ্রামে সবজি নাগালের বাইরে, ডাল-ডিমই ভরসা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৫০, ২ সেপ্টেম্বর ২০২০
কুড়িগ্রামে সবজি নাগালের বাইরে, ডাল-ডিমই ভরসা
ছবি : সংগৃহীত

কুড়িগ্রামে করোনা ও বন্যায় সবজির আবাদের বিপর্যয় ঘটেছে। সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা মেটাতে জেলাবাসীদের নির্ভর করতে হচ্ছে বাইরের জেলাগুলোর উপর। এরই ধারাবাহিকতায় বাজারগুলোতে জেলার বাইরে থেকে আসছে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় সপ্তাহে একদিনও সবজি কেনা এখন দুরূহ ব্যাপার হয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য। তাই ডাল আর ডিমের ওপর ভরসা করছেন প্রত্যন্ত এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ। 

বন্যা শুরুর পর থেকেই সবজির বাজারে মূল্য বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। কিন্তু গত দু’সপ্তাহ ধরে সবজির দাম লাগামহীন হয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রতিটি সবজিতে কেজি প্রতি দুই থেকে চারগুণ দামে কিনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচামরিচ ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, আলু ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ছোট করলা ১২০ টাকা, বড় করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, মুলা ও লাল শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কলমি শাক ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টি কুমড়া প্রতি পিস ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচকলা প্রতি হালি ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে চালের দামও বেড়েছে প্রকার ভেদে কেজি প্রতি তিন থেকে পাঁচ টাকা। কাঁচামরিচের কেজি ৩০০ টাকারও বেশি।

ভুক্তভোগী ক্রেতারা বলেন, বাজারগুলোতে সবধরনের সবজির সরবরাহ নেই। যা আছে সেগুলোর দাম চারগুণ বেশি। আগে এক কেজি কিনলে এখন কিনতে হচ্ছে এক পোয়া। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের পক্ষে এখন সবজি কিনে খাওয়া স্বপ্নের ব্যাপার। তাই ডিম ডালে দিন চলে যাচ্ছে। 

Advertisement

এক গৃহবধূ বলেন, আলু ভর্তা আর ডিম ভাজি দিয়ে সপ্তাহের বেশিরভাগ সময় পার করতে হচ্ছে। সবজির বাজারে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে আর কাঁচা মরিচ কিনে খাওয়ার কথা চিন্তাই করা যায় না।

সবজি বিক্রেতারা বলেন, বন্যায় কুড়িগ্রামের অধিকাংশ সবজির আবাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় জেলার বাইরে থেকে সবজি আনতে হচ্ছে, তাই দাম একটু বেশি। 

এক সবজিচাষি বলেন, এক বিঘা উঁচু জমিতে লাউ, করলা আবাদ করেছিলাম। বন্যার পানিতে না ডুবলেও বৃষ্টিতে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। এত করলা নষ্ট হয়ে গেছে। লাউয়ের ফলন কিছুটা হলেও মূলধন উঠবে না। বর্তমানে তিনি প্রতি পিস লাউ ক্ষেত থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন। 

কুড়িগ্রামের কচাকাটা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল জানান, এবারের বন্যায় তার ইউনিয়নের ৯৫ ভাগ সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বাইরে থেকে সবজি আমদানি করে আনছে ব্যবসায়ীরা। সেগুলোর দাম চড়া হওয়ায় সর্বস্তরের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রান্তিক চাষীদের জন্য সরকারের বিশেষ প্রণোদনা দাবি করেন তিনি। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এবারে দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় কুড়িগ্রামে ১৭ হাজার হেক্টর বিভিন্ন ফসলি জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক লাখ ৩৫ হাজার কৃষক। সরকারিভাবে কৃষিতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি টাকা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!