বরিশালের মাটিতে দেখা মিলল দুর্লভ ‘ননি’ ফল
বরিশালের গৌরনদীর কসবা গ্রামে মিলল অসাধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন দুর্লভ এক ঔষধি ফল ননি। মানবদেহের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী ননি ফল বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবে কাজ করে।
কসবা গ্রামের হাবিব সরদার নামে এক যুবক ১০ শতক জমিতে গড়েছেন দুর্লভ ঔষধি গাছের বাগান। বাগানে এবারই প্রথম মিলেছে সাইট্রিফেলিয়া বা ননি ফল। এরই মধ্যে ফলটির বাণিজ্যিক চাষের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তিনি। যে এলাকায় ননি ফলের বাগান থাকে, সেখানে কোনো রোগ সংক্রমণ ছড়ায় না বলে অনেকের অভিমত।
.png)
ননি ফলের জুস নিয়মিত সেবন করলে দমে যায় ক্যান্সার ও টিউমার নিয়ন্ত্রণে আসে ডায়াবেটিস। এই ফল খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমে, শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি পায়, প্রতিরোধ করে প্রদাহ ও হিস্টামিন। তবে এত উপকারী ফলটি দেশে দুর্লভ।
এই ফলে আছে ভিটামিন এ, সি, ই, বি, বি-২, বি-৬, বি-১২, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফলিক এসিড, প্যান্টোথেনিক এসিড, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক, কপার, অন্যান্য মিনারেলসহ প্রায় ১৫০টির মতো পুষ্টিগুণ।
গৌরনদীর ননি চাষি হাবিব সরদার জানান, তিন বছর আগে মালয়েশিয়া থেকে পাকা ননি ফল সংগ্রহ করেন তিনি। সেটি থেকে ৪৭টি চারা তৈরি করে রোপণ করেন। বর্তমানে ২৩টি গাছ আছে। চারা রোপণের এবারই প্রথম সব গাছে ফল ধরেছে। একটি হারবাল কোম্পানির সঙ্গে কথা হয়েছে, সব ফল তারা এখান থেকে প্রক্রিয়াজাত করে নেবে।
তিনি বলেন, ফলের বিচি রেখে দেব। বাণিজ্যিক চাষ করার জন্য এ বছর ৫০০ গাছ দিয়ে প্লট তৈরি করছি। দেশের আবহাওয়ায় পরিকল্পিতভাবে ননি ফল চাষ করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব।
পুষ্টিবিদ ইলিয়াস বিন শওকত বলেন, বিশ্বের ৩০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ননি ফল নিয়ে গবেষণা চলছে।
দুই হাজারেরও বেশি বছর ধরে প্রাচীন পলিনেশিয়া, চীন, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের আদিবাসীদের মধ্যে অসাধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ঔষধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে ননি । আধুনিক যুগেও এই ফলের রস মানব শরীরের বিভিন্ন ধরনের উন্নতির প্রমাণ দেখিয়েছে।