চান্দিনায় থেমে নেই সেই ভবনের কাজ
কুমিল্লার চান্দিনায় বড়কলাগাও-দোতলা এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে বিদ্যুতের খোলা তারে স্পৃষ্ট হয়ে শিশু প্রাণ হারানোর পরও থেমে নেই ওই বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ।
এ ঘটনায় ওই ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেয় কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। কিন্তু বিদ্যুৎ অফিসের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভবন মালিক আনোয়ার হোসেন প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে কাজ অব্যাহত রেখেছেন।
জানা যায়, বিদ্যুৎ আইন অনুযায়ী বিদ্যুতের ২২০ ভোল্টের খোলা তার থেকে যেকোনো ভবনের ছাদ কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব নিশ্চিত করে নির্মাণ কাজ করতে হবে। কিন্তু নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ওই বহুতল ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়।
ভবনটির একতলা ছাদের মাত্র এক ফুট উপরেই রয়েছে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর খোলা তার। অপর তারটি রয়েছে দ্বিতীয় তলা ছাদের মাত্র ৬ইঞ্চি দূরত্বে। এমন অবস্থায় ভবনটির নির্মাণ কাজ চলার সময় গত ৮ জুলাই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মনি (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু ঘটে।
ওই দুর্ঘটনার পর কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ লিখিতভাবে ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও ভবন মালিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে শুক্রবার গিয়ে দেখা যায়, ওই ভবনটির দ্বিতীয় তলার ছাদের ঢালাই কাজ চলছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, এভাবে কাজ চলতে থাকলে যেকোনো সময় আরো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ব্যাপারের নির্মাণাধীন ভবনের মালিক আনোয়ার হোসেন এর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কুমিল্লা পল্লি বিদ্যুত সমিতি-১ এর প্রধান প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভবনের মালিকের স্বেচ্ছাচারিতার ফলে একটি শিশু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। লাইনটি সরিয়ে নিতে ভবনের মালিক টাকা জমা দিলে তার সরিয়ে নেয়া হবে। এরপর তিনি কাজ করতে পারবেন, তার আগে নয়।