ঢাকা,  রোববার   ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

৬৫ দিন পর সাগরে মাছ ধরার উৎসবে জেলেরা

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:৪৫, ২৩ জুলাই ২০২০
৬৫ দিন পর সাগরে মাছ ধরার উৎসবে জেলেরা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বঙ্গোপসাগরে মৎস্য সম্পদ আহরণে টানা ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে মাছ ধরা। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার জেলেরা উৎসবের আমেজে শুরু করেছে মাছ ধরা।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় হাজার হাজার মাছ ধরার নৌকা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাগরে নামতে শুরু করেছে।  

মাছের প্রজনন বৃদ্ধির জন্যে ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো ৬৫ দিনের জন্য মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। দেশ ও জনগণ আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সুফল ভোগ করে সারা বছর। জাটকা নিধন না হওয়ায় প্রায় সারা বছরই ইলিশের দেখা পায় বাংলাদেশ।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় কক্সবাজারের প্রায় সাত হাজার মাছ ধরার নৌকা সাগরে নামতে শুরু করেছে। ফলে প্রাণহীন থাকা জেলে পল্লীগুলোতে আবার ফিরছে প্রাণচাঞ্চল্য। ইলিশ জালের ট্রলারগুলো গভীর সাগরে ৭ দিন বা ১৫ দিনের জন্য যায়। এই ট্রলারগুলোতে ৩০ থেকে ৪০ জন জেলে থাকেন। ছোট ট্রলারগুলো বিহিন্দি জালের সাহায্যে উপকূলের কাছাকাছি থেকে মাছ ধরে। দৈনিক তারা আসা-যাওয়া করে। এখানে ৭-১৫ জন জেলে থাকেন। এছাড়াও ইঞ্জিনবিহীন কিছু ককশিটে তৈরি নৌকা দেখতে পাওয়া যায়। মাত্র দুইজন জেলে নিয়ে তারা সাগরের তীরেই মাছ ধরেন। 

সূত্র জানায়, মাছসহ মূল্যবান প্রাণিজ সম্পদ রক্ষায় চলতি বছরের ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের জন্য বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার। বুধবার মধ্যরাতে এই নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়। শুক্রবার থেকে ছোট মাছগুলো বাজারে পাওয়া গেলেও ইলিশ পেতে আরো ৫/৭ দিন সময় লাগবে।   

কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস.এম. খালেকুজ্জামান বিপ্লব জানান, মাছগুলো প্রজননের সময় জালে ধরা পড়ে এবং বৃদ্ধি কমে যায়। তবে জেলেরা গত বছর সরকারের নিষেধাজ্ঞার সুফল ভোগ করেছে। কিছুদিন কষ্ট হলেও এবারো তাই হবে বলে আশা করা যায়।

উখিয়ার সোনারপাড়া পয়েন্টের জেলেরা জানান, এই লকডাউনে বাড়ি থেকে বের হতে পারিনি। তার উপর সমুদ্রে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ছিলো। সাগরে না গেলে আমাদের পরিবারকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে দীর্ঘদিন পর আর্থিক কষ্ট শেষ হচ্ছে আজ।

টেকনাফের শাপলাপুর পয়েন্টের প্রবীণ জেলে মুক্তার আলী অত্যন্ত উৎফুল্ল হয়ে জানান, সাগরের সঙ্গেই আমাদের জীবন বাঁধা। আমরা সাগরে না গেলে শান্তি পাইনা। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় অবশ্যই আমরা আনন্দিত।

গত বছরে নিষেধাজ্ঞার অভিজ্ঞতা কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা মেনে নেয়া খারাপ লাগলেও নিষেধাজ্ঞা শেষে বেশি মাছ পাওয়া যায়। গত বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি সময় ধরে ইলিশ পাওয়া গেছে। এবারো এমনটাই আশা করি।

শুধু ইলিশ নয়, লাক্ষা, পোয়া, টুনা, রূপচাঁদা, বেলেসহ ছোট কাচকি, দাতিনা মাছ জালে ধরা পড়ে। মনখালির মৎস্যজীবীরা জানান, আবহাওয়া ভালো থাকলে সকালেই রওনা দিতাম। কিন্তু ভারি বৃষ্টির কারণে আমাদের যাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছে। কিছু নৌকা সাগরে নামলেও এখনো অনেক নৌকা আবহাওয়া ভালো হওয়ার অপেক্ষায় আছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!