ঢাকা,  শনিবার   ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

প্রেমের ফাঁদে ফেলেন স্ত্রী, মুক্তিপণ আদায় করেন স্বামী

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০০:২৭, ২১ জুন ২০২০
প্রেমের ফাঁদে ফেলেন স্ত্রী, মুক্তিপণ আদায় করেন স্বামী
আটক আল-আমিন ও তার স্ত্রী ইরা ইসলাম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ ও নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে র‍্যাব। এ সময় অপহৃত এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে।

আটকরা হলেন- চট্টগ্রামের সন্দীপ থানার সাতঘরিয়া গ্রামের মো. আল আমিন ও ইরা ইসলাম। তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। শুক্রবার বিকেলে তাদের আটক করা হয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার জানান, আটকরা একটি পেশাদার অপহরণকারী চক্রের সদস্য বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধিরগঞ্জে এ ধরণের কার্যক্রম চালাচ্ছে। অপহরণে তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। তবে অন্যতম কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হতো প্রেমের ফাঁদ। আটক ইরা মিষ্টি কণ্ঠের মাধ্যমে রাসেলের মতো যুবকদের ফাঁদে ফেলতেন। এরপর অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় করতেন ইরার স্বামী আল-আমিন।

Advertisement

অপহৃত যুবক রাসেল জানান, ১১ জুন চিটাগাং রোড থেকে তাকে অপহরণ করে চক্রের সদস্যরা। পরে তাকে চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে অচেতন করে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। সেখানে একটি কক্ষে হাত-পা ও চোখ বেঁধে রাসেলকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। ওই সময় দুই লাখ টাকা মুক্তিপণের জন্য তার পরিবারের কাছে কল করে এবং এ বিষয়ে কাউকে জানালে রাসেলকে হত্যা করার হুমকি দেয়।

নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে রাসেল বলেন, অপহরণকারীরা তার মুখে কাপড় ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে চোখ, মুখ, হাত-পা বেঁধে লাঠি ও কাঠের তৈরি ব্রাশ দিয়ে মারধর করে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিন দিয়ে খোঁচা দেয়। কোনো উপায় না পেয়ে রাসেলের পরিবার ১৫ জুন রাতে বিকাশে ১০ হাজার টাকা দেয় এবং বাকি টাকা হাতেহাতে দিয়ে রাসেলকে ফিরিয়ে নেয়ার কথা জানায়।

র‍্যাব-১১ অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার জানান, ১৮ জুন রাসেলের মা এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ১৯ জুন বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!