সচিব পরিচয়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ
রাজধানীতে সচিব পরিচয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার কাছ থেকে জমি কেনার নামে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মো. এনায়েত হোসেন মান্নান এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. সাহাবুদ্দীন হাওলাদার ওরফে খলিলুর রহমান ওরফে মিজানুর রহমান (৪৭) (নকল সচিব), সুমন আহাম্মেদ ওরফে এরশাদুল জাহাঙ্গীর আলম (৩৯) (জমির কল্পিত মালিক), মো. জাহাঙ্গীর আলম শাহীন ওরফে এরশাদুল সাইফুল (৫২) (মধ্যস্থতাকারী/দালাল)
.png)
পিবিআই জানায়, ভিকটিম অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট ফারুক হোসেন নিজ জমি বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিলে প্রতারক চক্রের সদস্য ‘সাইফুল’ সচিব স্যারের জন্য জমি কেনার কথা বলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে ধানমন্ডির এক অভিজাত এলাকায় ভিকটিমকে দামি গাড়িতে আসা ‘নকল সচিব’ সাহাবুদ্দীন হাওলাদারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সরকারি পদে থাকায় সরাসরি জমি কেনা সমস্যা—এমন অজুহাত দেখিয়ে ভিকটিমকে সাভারের কিলামালিয়া মৌজার ৫৮ শতাংশ জমি কিনে দেওয়ার লোভ দেখানো হয় এবং এতে ১ কোটি টাকা লাভ হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়।
পরবর্তীতে আসামিরা যোগসাজশ করে ভিকটিমকে ডেল্টা হাসপাতালের সামনে কথিত জমির মালিক জাহাঙ্গীরের সঙ্গে দেখা করান। সেখানে ৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় জমি কেনার চুক্তি সাজিয়ে ভিকটিমের কাছ থেকে বায়না বাবদ প্রথমে ১০ লাখ এবং পরবর্তীতে বায়না স্ট্যাম্প মূল কপি হস্তান্তরের নামে আরও ২০ লাখসহ মোট ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে চক্রটি গা ঢাকা দেয়।
প্রতারিত হয়ে ভিকটিম দারুস সালাম থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর একটি বিশেষ টিম ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে গাবতলী, পল্লবী ও মিরপুরের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রটির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পিবিআই। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত নকল বায়নানামা স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়৷