আগামীকাল বিশ্ব পর্যটন দিবস
বর্ণাঢ্য র্যালি, সাইকেল শোভাযাত্রা এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য নগর ভ্রমণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে আগামীকাল বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
দিবসটি উপলক্ষে পর্যটনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) আজ এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি জানায়, সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, পর্যটন ব্যবসায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা প্রশাসন এবং পর্যটনকেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
.png)
জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা (ইউএন ট্যুরিজম) এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে—‘ডিজিটাল এজেন্ডা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পর্যটনকে নতুনভাবে সাজানো’।
এই ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশেও এবারের আয়োজনে দেশের পর্যটন খাতে ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ‘ডিজিটাল এজেন্ডা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পর্যটনকে নতুনভাবে সাজানো’ প্রতিপাদ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে।
এসব কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও পর্যটন আকর্ষণগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যটনসেবা ও পর্যটকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হবে।
আগামীকাল সকাল ৯টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবন থেকে উদ্বোধনী র্যালি শুরু হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী র্যালিটি উদ্বোধন করবেন বলে জানানো হয়েছে।
র্যালিতে পর্যটন খাতের অংশীজনরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরবেন। সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে সাইকেল শোভাযাত্রা।
এরপর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন (বিপিসি) সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি গাইডেড সিটি ট্যুরের আয়োজন করবে। এর মাধ্যমে শিশুরা রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।
২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবে। পর্যটক-উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথক একটি বৈঠক হবে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আরও বেশি পর্যটককে বাংলাদেশে ভ্রমণে উৎসাহিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।
মূল অনুষ্ঠান হবে আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে ১২টি বিষয়ভিত্তিক স্টলে বাংলাদেশের খাবার, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য, কারুশিল্প, বস্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলে ধরা হবে। স্টলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রতিপাদ্য বিষয়ের ওপর একটি সেমিনার হবে। এতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আক্তার। অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম অ্যাওয়ার্ড’ চালু করা হবে।
টেকসই পর্যটন, উদ্ভাবন, সেবার মান, ডিজিটাল রূপান্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিটিবি ১৩টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেবে। আলোচনা শেষে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।