গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. শাকিল, তার বাবা বকুল মিয়া ও মা শিমু বেগম।
র্যাব-২ এর সিনিয়র এএসপি শিহাব করিম জানান, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুলশানে স্কুলে যাওয়ার সময় এক কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যান মো. শাকিল। ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ভুক্তভোগীকে আটকে রেখে প্রতিদিন ৩-৪ বার ধর্ষণ করতেন এবং খাবারের সঙ্গে নেশা জাতীয় ওষুধ খায়িয়ে অজ্ঞান করে রাখতেন। এছাড়া সিগারেটের আগুন দিয়ে কিশোরীর হাতে ছেঁকা দেওয়াসহ বিভিন্ন প্রকার মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন।
.png)
তিনি আরো জানান, ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি ঐ কিশোরী কৌশলে পালিয়ে নিজ বাসায় চলে যান। পরবর্তীতে তার পরিবার আদালতে মো. শাকিল ও তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা করে। আদালত পিবিআইকে তদন্ত ও প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
র্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণসহ ধর্ষণের সত্যতা পাওয়ায় ঐ ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই। বিচারিক কার্যক্রম শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারকঅভিযুক্ত শাকিল, তার বাবা বকুল মিয়া ও শাকিলের মা শিমু বেগমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
এএসপি শিহাব করিম জানান, শুক্রবার রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর ভাটারার জোয়ার সাহারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাকিল ও তার বাবা-মাকে গ্রেফতার করে র্যাব। তারা তিন মাস জেল খাটার পর জামিনে বের হয়ে পলাতক ছিলেন। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর তারা গ্রেফতার এড়াতে ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিলেন। যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃতদের গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।