গ্রেফতারকৃতরা হলেন, উপজেলার উত্তর শ্রীবর্দী গ্রামের শমসের আলীর ছেলে আমের আলী ও ছনকান্দা বেপারিপাড়া গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে কাশেম।
র্যাবের জামালপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আশিক উজ্জামান জানান, ভিকটিম একজন স্কুল পড়ুয়া ছাত্রী। ২০১৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে আমের আলী ও কাশেম ঐ ছাত্রীর বাবার বাড়ি ভাড়া নেয়ার জন্য যান। একই দিন ভিকটিম তার নানার বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দিলে ঐ দুইজন তার পিছু নেন। পরে রাস্তায় জোরপূর্বক অপহরণসহ ধর্ষণের উদ্দেশ্যে ছাত্রীর গলায় থাকা ওড়না দিয়ে তার মুখ বেঁধে অটোরিকশা দিয়ে কর্ণজোড়া সড়কে নিয়ে যান।
.png)
ঐ ছাত্রী বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ছাত্রীটির বাবার মোবাইলে স্থানীয় একজন প্রতিবেশী জানান, তার মেয়ে কাকিকুল ব্রিজের পাশে পড়ে আছে। পরে ঐ ছাত্রী জানান, আমের ও কাশেম তাকে অপহরণ করে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন।
তিনি আরো জানান, এরপর ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে দুইজন আসামির নাম উল্লেখ করে অপহরণসহ ধর্ষণচেষ্টা মামলা করেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।
এরপর মামলার নানা ধরনের কার্যক্রম শেষে ২০২১ সালে ২৩ মার্চ শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক ও তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ আখতারুজ্জামান অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় উভয় আসামিকে ২৪ বছরের সাজা দেন।
আশিক উজ্জামান বলেন, আসামিরা গ্রেফতার এড়াতে ৯ বছর আত্মগোপনে ছিলেন। পরে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে শুক্রবার রাতে ছনকান্দা ব্যাপারিপাড়া থেকে কাশেমকে এবং একই দিন রাতে জেলা শহরের খোয়ারপাড় এলাকা থেকে আমের আলী গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের শ্রীবর্দী থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এ ব্যাপরে শ্রীবর্দী থানার ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস জানান, সাজাপ্রাপ্ত কাশেম ও আমের আলীকে শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হবে।