ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

[ ক্যাম্পাস ]

মসজিদ সংস্কারে টেন্ডারবাজি, ছাত্রদল নেতার বিচারের দাবি চাকসু ভিপির

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৫৬, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
মসজিদ সংস্কারে টেন্ডারবাজি, ছাত্রদল নেতার বিচারের দাবি চাকসু ভিপির
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে হলের মসজিদ সংস্কারকাজে টেন্ডারবাজি, হলের প্রভোস্টকে হুমকি, অবৈধভাবে হলের আসন দখলের চেষ্টা এবং চাকসু ভিপির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন চাকসু ভিপি। 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'চবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। গত ৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি অডিও ক্লিপে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলের মসজিদ সংস্কারকাজ আটকে থাকার পেছনে টেন্ডারবাজির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।'

এ ছাড়া গত ৩১ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি অডিও ক্লিপে তার কর্মীর জন্য অবৈধভাবে হলের আসন দখলের উদ্দেশ্যে সোহরাওয়ার্দী হলের তৎকালীন প্রভোস্ট ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নানের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও হুমকি দেওয়ার ঘটনা শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেয়৷ সেই অভিযোগের দেড় মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন। 

চাকসু ভিপির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলে বলেন, সম্প্রতি ছাত্রদলের একটি মিছিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় আব্দুল্লাহ আল নোমান চাকসু ভিপির বিয়ে নিয়ে মন্তব্য করেন। এ বক্তব্যকে ভিত্তিহীন, নির্লজ্জ ও মানহানিকর দাবি করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

চাকসু ভিপি বলেন, নোমানকে তাঁর বক্তব্যের স্বপক্ষে আগামী তিন দিনের মধ্যে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। তা করতে পারলে তিনি স্বেচ্ছায় চাকসুর ভিপি পদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলে জানান। অন্যথায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিগত সময়ে মসজিদ সংস্কারকাজে টেন্ডারবাজি ও হলের প্রভোস্টকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, শিক্ষক হেনস্তা, শিক্ষার্থী নির্যাতন, হলের ক্যান্টিনে বিনা মূল্যে খাবার গ্রহণ, বই চুরি করে বিক্রি, নারী হেনস্তা, র‍্যাগিং, সাংবাদিকদের হুমকি এবং মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্মে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগও তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ছাত্রদলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে এসব ঘটনা কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হলে তার দায় ছাত্রদল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/চবি/এসআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!