সিসার বিষে ঝুঁকিতে শিশুর ভবিষ্যৎ, মনপুরায় সচেতনতা কর্মসূচি
শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ও শেখার ক্ষমতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে সিসা দূষণ। এই নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ভোলার মনপুরা উপজেলায় আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সাকুচিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সিসা দূষণ প্রতিরোধ সপ্তাহ উপলক্ষে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন সাংবাদিক ও তরুণ সংগঠক আব্দুর রহমান সোয়েব। কর্মসূচির কো-লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আরাফাত ইসলাম করিম। এ সময় ইমাম হোসেন রিফাত ও তানিয়া আক্তারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় সিসা দূষণের উৎস, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষার উপায় তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও শেখার ক্ষমতার ওপর সিসার নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
প্রধান আলোচক আব্দুর রহমান সোয়েব বলেন, সিসা একটি বিষাক্ত ভারী ধাতু, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ, শেখার ক্ষমতা ও আচরণের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই সিসা দূষণ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, সিসাযুক্ত ধুলা ও দূষিত পরিবেশ থেকে শিশুদের দূরে রাখা এবং সিসা দূষণের সম্ভাব্য উৎস সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
কর্মসূচির কো-লিডার আরাফাত ইসলাম করিম বলেন, সিসা দূষণ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের নিজেদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের অন্যদের মধ্যেও সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের সিসা দূষণের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা হয় এবং শিশুদের সুরক্ষায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।