ঢাকা,  বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ক্যাম্পাস ]

রাবির পাঁচ শিক্ষককে ‘সর্বহারা’ পরিচয়ে ফোন, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:১২, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাবির পাঁচ শিক্ষককে ‘সর্বহারা’ পরিচয়ে ফোন, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পাঁচ শিক্ষককে ‘সর্বহারা’ পরিচয়ে ফোন করে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন মতিহার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

অভিযোগ পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, গণিত বিভাগের অধ্যাপক গৌর চন্দ্র পাল, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস, নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন এবং কৌশিক সরকার।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফোনদাতারা নিজেদের ‘সর্বহারা’ পরিচয় দিয়ে প্রথমে আর্থিক সহায়তা চান। পরে টাকা না দিলে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। কারাগারে থাকা কর্মীদের জামিনের খরচের কথা বলেও কারও কারও কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

Advertisement

নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন জানান, তাকে দুই দফায় ফোন দেওয়া হয়। প্রথমবার ব্যস্ত থাকায় তিনি ফোন ধরতে পারেননি। প্রায় দুই ঘণ্টা পর আবার ফোন এলে কলদাতার সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা হয়। এ সময় তার কাছে কত টাকা দেওয়া সম্ভব, তা জানতে চাওয়া হয়।

অধ্যাপক শাহরিয়ার বলেন, ‘কথার একপর্যায়ে তারা বলে, আপনার মাথায় রিভলবার ধইরা বলেন নাই যে, দাদা ফোন করবে, টাকা আপনি ম্যানেজ রাখবেন।’

তিনি জানান, ফোনদাতাদের একজন নিজেকে সিরাজ শিকদারের ছোট ভাই বলেও পরিচয় দেন।

অধ্যাপক শাহরিয়ার আরও বলেন, পুলিশের মাধ্যমে নম্বরটি ট্র্যাক করে জানতে পেরেছেন, ফোনটি মাদারীপুর থেকে করা হয়েছে। যে সিম থেকে ফোন করা হয়েছে, সেটি মুফতি রেজাউল করিম নামে এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত।

ঘটনার পর নিরাপত্তা চেয়ে মতিহার থানায় জিডি করেন অধ্যাপক শাহরিয়ার। বিষয়টি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকেও জানান।

অধ্যাপক শাহরিয়ার বলেন, প্রক্টর তাকে জানিয়েছেন, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের কাছে একই ধরনের প্রতারণামূলক ফোন এসেছে।

ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ফোন করে যখন নিজেদের সর্বহারা বলে পরিচয় দেয়, তখন আমি আর কথা না বাড়িয়ে কলটি কেটে দিই। পরে জানতে পারি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষক একই ধরনের ফোন পেয়েছেন।’

এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজুন বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এ ঘটনায় জিডিও করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই এর সমাধান হবে।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/রাবি/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!