ঢাকা,  বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ক্যাম্পাস ]

বিশেষ বিবেচনায় কর্মসংস্থানের সুযোগ চান চবির দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছাত্রদল নেতা

চবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:১৪, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিশেষ বিবেচনায় কর্মসংস্থানের সুযোগ চান চবির দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছাত্রদল নেতা
কর্মসংস্থানের সুযোগের দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মিজান মিয়া। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মিজান মিয়া বিশেষ বিবেচনায় কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসকের কাছেও আবেদন করেছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

মিজান মিয়া বলেন, তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বলেও জানান তিনি।

Advertisement

নিজের পারিবারিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মিজান বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে তিনি একটি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাস করছেন। তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। পরিবারের ব্যয় চালাতে অসুস্থ অবস্থাতেও একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন তিনি। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে স্ত্রী আর কতদিন কাজ করতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

মিজান বলেন, লেখাপড়া শেষ করেও বর্তমানে তিনি বেকার। এ কারণে স্ত্রীর চিকিৎসা ব্যয় ও পরিবারের ভরণপোষণ চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে আবেদন করেছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে টেলিফোন অপারেটর পদেও আবেদন করেছেন। বিশেষ বিবেচনায় একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসকের কাছেও আবেদন করেছেন তিনি।

মিজান বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর অধিকার নিয়ে তিনি আন্দোলন করেছেন এবং তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু নিজের বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি কোনো অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও আক্ষেপ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি মানবতার মূর্ত প্রতীক, আপনার হাত ধরে আমরা নতুন একটি বাংলাদেশ পেয়েছি। আমরা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা যখন আপনার দিকে তাকাই, তখন ভাগ্যের পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখি।’

নিজেকে টেলিফোন অপারেটর পদের জন্য যোগ্য দাবি করে মিজান বিশেষ বিবেচনায় তাঁকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস না পেলে তাঁকে চিন্তাভাবনা করে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। তবে তাঁর আন্দোলন রাষ্ট্র, সরকার বা কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ন্যায্য অধিকারের জন্য আন্দোলন। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/চবি/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!