রাজশাহীতে রেলকর্মীর হামলার শিকার রাবি শিক্ষার্থী
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে রেলওয়ে কর্মচারীরা মারধরের - অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী তার চাচাকে রিসিভ করতে গেলে রেলওয়ে কর্মচারীদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
.png)
ঘটনার পর আহত আইয়ুব আলীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার সিটি স্ক্যান করা হলে মাথায় রক্ত জমাট বাঁধার বিষয়টি ধরা পড়ে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে। অপারেশনের প্রয়োজন হবে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে উপস্থিত হন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রেলওয়ে কর্মীদের একাধিকবার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, এর আগের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
এদিকে আইয়ুব আলীর ওপর হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে রাত ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন বাজার এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভকারীদের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—রাত ১১টার মধ্যে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীদের কাছে রেল কর্তৃপক্ষের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া।
শিক্ষার্থীরা আরও জানিয়েছেন, তারা সরকারি সম্পত্তির কোনো ধরনের ক্ষতি করবেন না এবং ট্রেন চলাচল বন্ধ বা ট্রেন আটকানোর মতো কর্মসূচিতে যাবেন না। তবে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চলমান বিরোধের সমাধান এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং রেলওয়ে কর্মীদের সঙ্গে সংঘটিত ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা বিষয়টি নিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
*** রাকসু জিএস সালাহউদ্দীন আম্মার বলেন ‘রাত ১১ টা ৪০ এর মধ্যে রেল কর্তৃপক্ষ যদি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে না আসে তাহলো লং মার্চ টু রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে যাবে সকল শিক্ষার্থী। এটা সকল শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত।’