বাউল সুরে দেশ-বিদেশের শিল্পীরা, ২০ সেপ্টেম্বর জাবিতে ‘বাউল বিসর্গ’
জাবি প্রতিনিধি :
.png)
‘পৃথিবীটা একদিন বাউল-এর হবে’ প্রতিপাদ্যেকে সামনে রেখে আগামী রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় জহির রায়হান মিলনায়তন প্রাঙ্গণে দেশি-বিদেশি শিল্পীদের কন্ঠে বাংলার লোকসংগীত ও বাউল দর্শনকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ‘সুস্বর’জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আয়োজন করতে যাচ্ছে এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘বাউল বিসর্গ’।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪ টা ৩০ মিনিটে টিএসসির কনফারেন্স রুমে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, রজনীকান্ত সেন ও অতুলপ্রসাদ সেনের সৃষ্টিতে বাউল ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। তাদের গান ও সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বাউল দর্শনের মানবিকতা, আধ্যাত্মিকতা, বৈরাগ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিভিন্ন দিক প্রকাশ পেয়েছে। ‘পঞ্চকবির বাউল ভাবনা ও গান’ পরিবেশনার মাধ্যমে সেই ধারাটিই দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে।
অনুষ্ঠানে সুস্বরের শিল্পীদের পাশাপাশি পালাগান পরিবেশন করবেন বাংলাদেশের দেওয়ান ঘরানার লোকসংগীতশিল্পী খালেক দেওয়ান ও তাঁর দল। এছাড়া ভারতের রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ও ‘দ্য ট্যাগোর বয়েজ’-এর কণ্ঠশিল্পী দীপাঞ্জন পাল, বাংলাদেশের নজরুলসংগীতশিল্পী শুভ কর্মকার এবং পঞ্চকবি ও রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী হৃষিৎ মুখোপাধ্যায় অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানে এসরাজ পরিবেশন করবেন সৌমিত রায় এবং তালযন্ত্রে থাকবেন সহন দেওয়ান।
উক্ত অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জহির রাইহান রাইন এবং তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের প্রভাষক নাহিদুল হাসান নাঈম।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) ইহাদ আহাম্মেদ প্রত্যয় জানান,” বাংলা লোকসংগীত শুধু গান নয়; এর সঙ্গে মানুষের জীবন, প্রেম, বিরহ, আধ্যাত্মিকতা ও সমাজ-সংস্কৃতির নানা দিক জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে বাউল দর্শনের মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা বাংলা লোকসংগীতকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। ‘বাউল বিসর্গ’-এর মাধ্যমে গান, কথন ও আলোচনার সমন্বয়ে এই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।”
প্রচার সম্পাদক সেমন্তী রোদসী বলেন, ‘বাউল বিসর্গ’-এর মাধ্যমে লোকসংগীতের প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি বাউল দর্শনের মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিসরে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিল্পী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিত্ব ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছে তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সাল থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীতচর্চা করে আসছে সুস্বর। শুদ্ধ সংগীতচর্চার প্রসারে কয়েকজন তরুণের উদ্যোগে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সংগীত ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক পরিসরে সক্রিয় রয়েছে সংগঠনটি।