Alexa সিএসই-তে পড়ার আগে যা জানা জরুরি

ঢাকা, সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ১ ১৪২৬,   ১৬ মুহররম ১৪৪১

Akash

সিএসই-তে পড়ার আগে যা জানা জরুরি

মাহমুদা রাহমান অরিন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২৮ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

প্রযুক্তিভিত্তিক পড়াশোনায় ক্যারিয়ার গঠনে বিপুল সম্ভাবনাময় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। যাকে সংক্ষেপে বলা হয় সিএসই।

এ বিষয়ে পড়াশোনা করে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়াররা তাদের মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। এর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।  

অনেকেই ভাবেন এইচএসসি কম পয়েন্ট পেয়ে সিএসই পড়া যাবে কি না? আসলে ফলাফল যাই হোক সিএসসি পড়তে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।

সিএসই পড়তে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

কম্পিউটার সায়েন্স যেহেতু কম্পিউটার সম্পর্কিত তাই সবার আগে কম্পিউটার সম্পর্কে জানা জরুরি। সিএসইতে পড়ার সময় এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল শেখানো হয় না। তাই এ বিষয়গুলো আগে থেকেই জেনে নিতে হবে।

প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ

সিএসই’র ক্লাস শুরুতেই থাকবে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শুরুতে মূলত C+ দিয়ে শেখানো হয়। নতুনদের এই প্রোগ্রাম বুঝতে অসুবিধা হয়। তাই ক্লাসে ও ল্যাবে মনোযোগী হতে হবে। নিজে নিজে প্রচুর প্র্যাকটিস করতে হবে। সেমিস্টার চলাকালীন সময়ে চাপ কম থাকে, সময়ও কম থাকে। তাই নতুন সেমিস্টার শুরুর আগেই দুর্বল বিষয়গুলো ঝালিয়ে নিতে হবে।  

এছাড়াও প্রোগ্রামিং শেখার জন্য প্রচুর পরিমাণে অনলাইন টিউটোরিয়াল আছে। বাংলায় বেশ ভালো টিউটারিয়াল পাওয়া যায়। এ থেকে শিক্ষার্থীরা প্রোগ্রামিং এর প্রাথমিক ধারণা পাওয়া পেতে পারে। প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ভালোভাবে শিখতে পারলে পরের ধাপগুলো সহজেই শেখা যায়।

এরপর…

এরপর বিভিন্ন ধাপ যেমন- প্রোগ্রামিং, অ্যালগরিদম, ডাটা স্ট্রকচার, নেটওয়ার্কিং, গ্রাফিক ডিজাইন, সফটওয়্যার, কম্পাইলার, ডাটাবেস ইত্যাদি। ওয়েবসাইট বানাতে চাইলে html, css দিয়ে শুরু হোক আপনার পথচলা। চাইলে পাইথনও শিখতে পারেন। নিজে নিজে মোবাইল এপ্লিকেশন বানাতে চাইলে জাভা দিয়েও শিখতে পারেন।

নাম আলাদা হলেও ভিতরের কনসেপ্ট একই রকম। তাই যেটা ভালো লাগে, সেটা দিয়েই শিখতে পারেন। একটা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ভালো করে জানলেই হবে। যেই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়েই শুরু করো না কোনো, তার মধ্যে সারাজীবন পড়ে থাকতে হবে না। দরকার হলে এক প্রোগ্রামিং থেকে অন্য প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে সুইচ করতে পারবেন।

স্কলারশিপের ক্ষেত্রে

সিএসইতে স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ বেশি। তবে বাইরের দেশের ভার্সিটিতে অ্যপ্লাই করার জন্য সিজিপিএ ভালো থাকতে হবে। সিজিপিএ ৩.৭০ এর উপর পাশাপাশি প্রজেক্ট বা প্রোগ্রামিং কনটেস্টে ভালো করতে পারলে স্কলারশিপ পাওয়া সহজ হয়ে যায়।

পাশ করার পর জিআরই ও টোফেল নামে দুইটা পরীক্ষা দিয়ে স্কলারশিপের জন্য এপ্লাই করতে পারবেন। আপাতত জিআরই, টোফেল নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। পড়া অবস্থায় সিজিপিএ, প্রজেক্ট আর স্কিল ডেভেলপের উপর মনোনিবেশ করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

চাকরির ক্ষেত্রে        

সিএসই শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরি পাওয়া সহজ। সিএসই পড়ে কাউকে বেকার থাকতে হয় না। তবে প্রোগ্রামিং কনটেস্ট বা প্রবলেম সলভ করতে পারলে ভালো। প্রোগ্রামিং এর অনেক ভিতরে ঢুকতে হবে এছাড়া কঠিন গাণিতিক সমস্যা সমাধান করার স্কিলও থাকতে হবে। বড় বড় কোম্পানি যেমন গুগল, ফেইসবুক, মাইক্রোসফটে চাকরি পাওয়া সহজ হবে।

কাজের ধরন

সিএসই শিক্ষার্থীদের জন্য  অনেক রাস্তা খোলা রয়েছে। এ বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা মূলত দুই ভাগে কাজ করেন। কেউ প্রোগ্রামার আবার কেউ নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর। এই দুই ধরনের কাজেই শিক্ষার্থীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাছাড়া ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্সিং বা মার্কেট প্লেসের কাজ করা যেতে পারে। এতে করে নিজেই আরো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পারবে। আর অফিস-আদালতের চাকরি তো আছেই। প্রতিটি ব্যাংক, করপোরেট হাউস, গণমাধ্যমসহ প্রায় সব সরকারি-বেসরকারি অফিসেই প্রয়োজন হয় কম্পিউটারে দক্ষ জনবলের।

ডেইলি বাংলাদেশ/অরিন/টিএএস/জেডএম