ঢাকা,  শনিবার   ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

শঙ্কায় গোমতী পাড়ের ২৫ পরিবার

শাহজাদা এমরান, কুমিল্লা
প্রকাশিত: ১২:৪৭, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
শঙ্কায় গোমতী পাড়ের ২৫ পরিবার
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুমিল্লার বুড়িচংয়ের মোকাম ইউপির দূর্গাপুরের মধ্যে দিয়ে বহমান গোমতী নদী। সেই নদীর পাড়ে বসবাস করেন ২৫টি পরিবার। তবে নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি তোলায় পরিবারগুলোর জমি ও বাড়ি ধসের শঙ্কা রয়েছে।

মোকাম ইউপির দূর্গাপুরের আবদুল খালেকের ছেলে আনোয়ার হোসেন, আবদুর রবের জমির পাশে লাগোয়া নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি তোলা হচ্ছে। পরিহলপাড়ার গ্রামের বিল্লাল, হারুন, শরীফ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজারে মাটি তুলছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি কয়েক দিন ধরে একই এলাকার আবুল কালাম, আবুল কাশেমের মালিকানাধীন জমিতে ড্রেজার স্থাপন করে মাটি উঠানোর পাঁয়তারা করছে অভিযুক্তরা। এসব ড্রেজারের মালিক একই এলাকার মোবারক হোসেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা। স্থানীয়রা ড্রেজার বন্ধের প্রতিবাদ করলেও মালিক তোয়াক্কা না করে মাটি তোলার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, প্রায় এক মাস ধরে আমার বাড়ির ভবনের পাশে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে মাটি তোলা হচ্ছে। এতে ভিটা ও বাড়ির মাটি ধসে পড়ছে। বাড়িঘর এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

পাশের জমির মালিক খোকন মিয়া বলেন, আবুল কালাম ও আবুল কাশেম আমার ভাই। তাদের জমির পাশে ড্রেজার লাগানোর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। যে জমিতে ড্রেজার স্থাপন করা হয়েছে, ওই জমিটির দুই পাশে সড়ক, পরের জমিগুলো নিজের ও ভাইদের। ড্রেজারে মাটি তোলায় সড়কসহ পাশের জমি বিলীনের শঙ্কা রয়েছে। মালিককে ড্রেজারে মাটি না কাটার অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি অনুরোধ না শুনে মাটি তুলছেন।

ঘটনাস্থলে ড্রেজার মালিক মোবারক হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে পরিচয় গোপন করে পালিয়ে যান। 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লার আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর মাসুম বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করতে হবে। ড্রেজারে মাটি কাটার আগে জমি ও বাড়িঘরের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা দেখতে হবে। মাটি কাটার বিষয়টি প্রশাসনের কঠোরভাবে দমন করা উচিত। যাতে অন্য কেউ অবৈধ কাজটি করতে সাহস না পায়। 

বুড়িচংয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহ্মিদা আক্তার বলেন, ড্রেজারে মাটি কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। যেহেতু বিষয়টি জানতে পেরেছি, সেহেতু দ্রুত ড্রেজার বন্ধের ব্যবস্থা করা হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!