Alexa রায়ের পরও আসলামের মাথায় আইএস’র পতাকা, মুখে ‘আল্লাহু আকবর’

ঢাকা, শুক্রবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৬,   ০৮ রবিউস সানি ১৪৪১

রায়ের পরও আসলামের মাথায় আইএস’র পতাকা, মুখে ‘আল্লাহু আকবর’

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৩৬ ২৭ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৪:৫৫ ২৭ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা মামলায় গ্রেফতারকৃত আট আসামির মধ্যে ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এজলাসকক্ষ থেকে আসামিদের আদালত চত্বরে থাকা প্রিজনভ্যানে নিয়ে আসা হয়। এ সময় আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ মাথায় আইএস’র কালো পতাকা বেঁধে আল্লাহু আকবর বলে চিৎকার করতে দেখা যায়। 

জানা গেছে, তিনি আদালতের লিফটে ওঠার সময় পুলিশের সামনেই আইএস’র প্রতীক চিহ্নিত কালো পতাকা ক্যাপ পরেন। এজলাসেও তার মাথায় ছিল এ ক্যাপ।

আসলামের বাড়ি রাজশাহীর পবার নওহাটা মথুরায়। ২০১৭ সালের ২৮ জুলাই গ্রেফতার করা হয় তাকে। হামলাকারীদের প্রশিক্ষকের কাছে পৌঁছে দেয়া এবং অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেয়া, ঘটনাস্থল রেকি, হামলার পরিকল্পনায় অংশ নিয়ে হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে আসলামের বিরুদ্ধে।

এদিকে, প্রিজনভ্যানে উঠার আগে উত্তেজিত হয়ে নানা ধরনের বক্তব্য দিতে থাকেন বাকিরা। সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অকথ্য কথা বলতে থাকেন। তবে সবাই ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল। ফাঁসির আদেশ শোনার পরও কারো মধ্যে কোনোরকম ভীতি লক্ষ্য করা যায়নি।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাতকাটা সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, রাশেদ ইসলাম ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন। মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান।

আসামিদের প্রিজনভ্যানে করে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়

এর আগে, সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রিজনভ্যানে করে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়।

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের ওই রেস্তোরাঁয় ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে গলাকেটে ও গুলি চালিয়ে হত্যা করে নব্য জেএমবির জঙ্গিরা। হামলা ঠেকাতে গিয়ে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে কমান্ডো অভিযানে হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত পাঁচ তরুণের সবাই মারা যান। তারা হলেন- রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাজ ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।

এছাড়া এ মামলায় আসামিদের মধ্যে বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানে নিহত আটজন হলেন- তামিম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।

রায়ে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর গোলাম সারোয়ার খান (জাকির)। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন মোহাম্মাদ দেলোয়ার হোসেন। 

নব্য জেএমবি ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় হামলা চালিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে শরীয়া আইন প্রতিষ্ঠা করতে এই হামলার ছক কষেছিল বলে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে।

মামলা থেকে খালাস পান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান

দুই বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তের পর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই হামলায় জড়িত ২১ জনকে চিহ্নিত করে তাদের মধ্যে জীবিত আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর ৩ ডিসেম্বর মামলার বাদী এসআই রিপন কুমার দাসের জবানবন্দি নেয়ার মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার শুরু হয়েছিল। ২০০৯ সালের এই আইনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হত্যার অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। আলোচিত এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এই মামলায় আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছেন।

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় নির্মমভাবে নিহত হন ২২ হন, যাদের ১৭ জনই বিদেশি। ১২ ঘণ্টা পর কমান্ডো অভিযানের মধ্য দিয়ে সেই সংকটের রক্তাক্ত অবসান ঘটে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/এনকে