ঢাকা,  সোমবার   ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

হানিফসহ চারজনের সর্বোচ্চ সাজা চায় প্রসিকিউশন

আদালত প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৩৫, ৫ অক্টোবর ২০২৬
হানিফসহ চারজনের সর্বোচ্চ সাজা চায় প্রসিকিউশন
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক শেষ করেছে প্রসিকিউশন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

যুক্তিতর্ক শেষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে মামলার বিচারিক কার্যক্রমের যুক্তিতর্ক এর আগে শেষ হয়েছিল। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত তথ্য-প্রমাণ দাখিল করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় এবং চার আসামিরই সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাহবুবউল আলম হানিফ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অধীনস্তদের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছেন। তাকে বেসামরিক নেতা হিসেবে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন বলেছে, নির্দেশনা ও টেলিফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি আন্দোলন দমনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন।

প্রসিকিউটর তামিম আরও বলেন, হানিফের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে হত্যাকাণ্ড চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব কথোপকথনের রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিমকে একই ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়েছে। সেই নজিরের ভিত্তিতে হানিফের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।

মামলায় হানিফ ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চার আসামিই বর্তমানে পলাতক।

এর আগে গত ১০ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত প্রমাণ দাখিল করায় পুনরায় যুক্তিতর্কের সুযোগ দেওয়া হয়।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং জুলাই-আগস্টের আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে চার আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!