Alexa বারান্দা যখন শ্রেণিকক্ষ

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৫ ১৪২৬,   ২০ মুহররম ১৪৪১

Akash

বারান্দা যখন শ্রেণিকক্ষ

মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৮ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দীর্ঘ ২৩ বছর অতিক্রম করলেও শ্রেণিকক্ষ সংকটে ভুগছে মানিকগঞ্জের সিংগাইরের বায়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তবে অব্যাহত আছে এর পাঠদান। স্কুলের বারান্দায়ই চলছে পাঠদান কার্যক্রম। 

বিদ্যালয়ের সূত্রানুযায়ী, ১৯৯৬ সালে ৩৩ শতাংশ জমির ওপর বায়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। উপজেলা সদর থেকে বিদ্যালয়টির দূরত্ব প্রায় আট কিলোমিটার। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারি তালিকাভুক্ত হয় এবং চারতলা ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে তিন কক্ষ বিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকদের জন্য নেই কোনো অফিসকক্ষ। এ জন্য শিক্ষকরা বারান্দার এক কোণে একটি টেবিল ও কয়েকটি চেয়ার নিয়ে বসে কাজ সারেন। স্কুলের তিনটি কক্ষই শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বারান্দার মেঝেতে বসিয়ে পাঠদান করাতে হয়। বিদ্যালয়টি লেখাপড়ায় গুণগত মানেও রয়েছে এগিয়ে।

২০১৭ ও ২০১৮ সালের সমাপনী পরীক্ষায় এ বিদ্যালয় থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন সমস্যার কারণে ডিজিটাল যুগে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

সরকারিভাবে তেমন কোনো অনুদান না পাওয়ায় আসবাবপত্র সংকট, ব্যবহার অনুপযোগী টয়লেট ব্যবস্থা, কম্পিউটার সুবিধা না পাওয়া, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি ও শিক্ষক স্বল্পতাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়টি।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ সময় পার করলেও প্রতিষ্ঠানটি সরকারি তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা পায়নি। বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষ সংকটে বিদ্যালয়ের বারান্দার মেঝেতে প্রচণ্ড গরম সহ্য করে শিশু শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানো হয়। এতে করে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আঞ্জুমান আরা খাতুন জানান, বিদ্যালয়টির সামনে রয়েছে বড় আকারের গর্ত। বছরের অধিকাংশ সময় পানি জমে থাকায় বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস বহনকারী পোকা-মাকড়ের জন্ম হয়। এতে শিক্ষার্থীদের নানা রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। এছাড়াও ঝড়, বৃষ্টি হলে সবাইকে আতঙ্কে থাকতে হয়। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিমু খানম জানান, বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষের সংকট দীর্ঘদিনের। মান সম্পন্ন শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দফতরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

উপজেলার শিক্ষা অফিসার সৈয়দা নার্গিস আক্তার জানান, স্কুলটিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবস্থা দেখে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
 
ডেইলি বাংলাদেশ/আর.এইচ/জেএস