ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

[ খবর ]

করোনা আতঙ্কের মধ্যেই উৎসবের আমেজ তুরাগে!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:০৫, ২৮ মার্চ ২০২০
করোনা আতঙ্কের মধ্যেই উৎসবের আমেজ তুরাগে!
রাজধানীর তুরাগের রাস্তায় রাতেও মানুষের ভিড়। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

করোনাভাইরাসের প্রকোপ রোধে জনসমাগম বন্ধ করতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে বাড়িতে অবস্থান করতে বললেও রাজধানীর তুরাগের অধিকাংশ মানুষ তা মানছে না। হোম কোয়ারেন্টাইন না মোনে তারা ঈদের আমেজ ও খোস মেজাজে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোনো রকম দূরত্ব বজায় না রেখে খেলছে মাঠে। ঘরে ঘরে থাকার কথা থাকলেও অকারণেই রাস্তা-ঘাটে ভীড় করছে মানুষ।

সরেজমিন শুক্রবার ও শনিবার বাউনিয়া বাজার, বাদালদী, উলুদাহা, পাবনাটেক, মাতবর বাড়ি, সুলতান মার্কেট, বটতলা বাজারসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় মিলে এমন চিত্র।

এলাকায় যেসব দোকান বন্ধের আওয়তায় থাকার কথা ছিলো সেগুলোও থাকছে খোলা। সেই সুবাদে ভীড় বাড়ছে বাইরে। জমছে আড্ডা, নেই কোনো সচেতনতা। ভাম্যমাণ কাপড়ের ভ্যান থেকে পোশাক কিনতে ভীড় করছেন অনেকে।

অথচ সবারই জানা এ রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো সচেতনতা। মাইকিং, মসজিদে লিফলেট বিতরণ, মাঝে মাঝে পুলিশের মহড়া কিছুই পারছেনা এই এলাকার মানুষের মাঝে সচেতনতা ফেরাতে।

গতকাল সন্ধ্যায় বাউনিয়া বাজারে কোনো কারণ ছাড়াই দেখা যায় মানুষের ভীড়। সচেতন মহলের লোকজন বলছে, আছরের পর থেকে রাস্তাগুলোতে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। খেলার মাঠে শত শত মানুষ করছে খেলা।

এনিয়ে তুরাগ থানা কৃষকলীগ সভাপতি সাজেদুল ইসলাম বেশ কয়েকটি ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন। কোনো প্রতিকার না পেয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের ফোন করে অনুরোধ করেন বাসায় ঢুকানোর জন্য।

সাজেদুল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বিকেল হলেই মানুষের মাঝে ঈদের আমেজ নেমে আসে এই এলাকাতে। তিনি আরো বলেন, আল্লাহ না করুন, যখন ইতালীর মতো অবস্থা হবে তখন সচেতন হয়ে কোনো লাভ হবে না। সময় থাকতে সচেতন হতে হবে।

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে, শুধু রাজধানীর মেইন রোডে ব্লিচিং পাউডার স্পে করে কোনো লাভ হবে না। এখন সবাই পাড়া মহল্লায় বন্ধি। সুতরাং এসব এলাকা পরিস্কার রাখতে হবে। লোক সমাগম কমাতে নজরদারি বাড়াতে হবে। তা না হলে যেকোনো সময় ছড়িয়ে পড়তে পারে করোনা ভাইরাস।

তারা আরো বলেন, রাজধানীর মেইন রোড ও মার্কেটগুলোতে লোক না থাকলেও প্রচুর লোকসমাগম হয় পাড়া-মহল্লায়। যেসব স্থানে আগে লোক দেখা যেতনা সেগুলো এখন লোকে লোকারণ্য।

স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই মানুষ ভীড় করছে। মহল্লার গলিগুলোতে আড্ডা চলে কেউ বলার নেই। বাজারে কোনো কাজ নেই, তারপরেও আড্ডা জমায় মুরব্বীরা। দ্রুত এগুলো কমানো না গেলে আমাদের এলাকাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে করোনাভাইরাস।

এলাকার সচেতনতা প্রসঙ্গে বাউনিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এখনো ঘুমিয়ে আছে। যখন কেউ একজন করোনায় আক্রান্ত হবে তখন তাদের ঘুম ভাঙবে।

তিনি বলেন, শুধু মেইনরোড কড়া নজরদারি করলে হবে না। প্রতিটা মহল্লাতে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। আগেও মহল্লা গুলোতে যে পরিমাণ লোক ছিল এখনো সেই পরিমাণ লোক রাস্তায় দেখা যাচ্ছে। তাদের ধারণা শহরের মানুষ করোনায় আক্রান্ত হবে। মহল্লার মানুষ করোনাই আক্রান্ত হবে না। এটা হলো তাদের বুঝের অভাব। তাদেরকে বুঝাতে হবে যে আমরাও করোনায় আক্রান্ত হতে পারি।

কর্তাব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের  দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, অনুগ্রহপূর্বক সবার মঙ্গল কামনায় মহল্লা গুলোতে কড়া পদক্ষেপ নেয়া হোক।

লোকসমাগম সম্পর্কে দিয়াবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শফিউল আলম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, মাইকিং করা হচ্ছে। আমাদের ফোর্সগুলো ডিউটি করছে। রাস্তায় মানুষ দেখলে তাদের ঘরে ঢোকার জন্য অনুরোধ করছে।

তিনি আরো বলেন, মানুষকে তো মেরে সচেতনতা বাড়ানো যাবেনা। যদি নিজ থেকে সচেতন না হয়। সবাইকে অনুরোধ করবো আপনারা নিজে সচেতন হোন অন্যকে সচেতন করুন। সবাই মিলে সুস্থ থাকুন প্লিজ।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!