Alexa ইসলামের পাঁচ রোকন ও কালেমার গুরুত্ব

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২২ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৬ ১৪২৬,   ২২ সফর ১৪৪১

Akash

ইসলামের পাঁচ রোকন ও কালেমার গুরুত্ব

পর্ব-১

নুসরাত জাহান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৯ ৩ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১২:৫৬ ৫ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

হজরত রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ইসলামি সৌধ পাঁচটি জিনিসের ওপর প্রতিষ্ঠিত (১) কালেমা (২) নামাজ (৩) জাকাত (৪) হজ এবং (৫) মাহে রমজানের রোজা। (বুখারি, মুসলিম)

ইসলামের এই পাঁচটি প্রধান জিনিসকে মুসলমানের পঞ্চ রোকন বলা হয়। ইসলামে এই পঞ্চ রোকনের ওপর খুব জোর দেয়া হয়েছে। এমনকী এক হাদিসে আছে, একদা এক গ্রাম্য লোক রাসূলুল্লাহ (সা.) এর খেদমতে হাজির হয়ে আরজ করল হুজুর! আমাকে এমন নেক কাজ বলে দিন যা আমল করলে আমি বেহেশতের অধিকারী হতে পারব’। হজরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘কেমলমাত্র আল্লাহ তায়ালার ইবাদত কর এবং কাউকেও তার সঙ্গে শরিক করো না। ফরজ নামাজ কায়েম কর, ফরজ জাকাত আদায় কর এবং মাহে রমজানের রোজা রাখো।’ এই কথা শুনে লোকটি বলল, ‘আমি খোদার কসম করে বলছি যে, হজুর! আপনি আমাকে যে সব নেক কাজ করতে আদেশ দিলেন, আমি তাতে কোনো প্রকার কম বেশি করবো না। উক্ত ব্যক্তি চলে যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যদি কেউ বেহেশতি লোক দেখতে চাও তবে ওই গ্রাম্য লোকটিকে দেখে নাও।’ (বুখারি ও মুসলিম)

এতদ্ব্যতীত আরো বহু সহিহ হাদিসে ইসলামের পঞ্চ রোকনের ওপর যেভাবে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে তাতে স্বভাবতই অন্তরে এই প্রশ্নের উদ্রেক হতে পারে যে, ইসলামের হুকুম আহকাম এই পঞ্চ রোকনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আসলে এরূপ ধারণা ঠিক নয়। এবং এই পাঁচটি রোকন আদায় করলেই ইসলামি জিন্দেগি গঠন করার কাজ সম্পন্ন হয়ে যায় না। বরং ইসলামের নির্দেশ এই যে, সমগ্র জীবন ইসলামের বিধান অনুযায়ী গড়ে তুলতে হবে। এমতাবস্থায় রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত আরাবিকে হেবেশতি হওয়ার সুসংবাদ দিলেন কিরূপে? এই প্রশ্নের সহজ উত্তর এই যে, পঞ্চ রোকনের স্বরূপ সম্বন্ধে একটু চিন্তা করলেই এটি পরিষ্কাররূপে প্রতীয়মান হয়ে যে, এই পঞ্চ রোকনে পূর্ণ ইসলামি জিন্দেগির কার্যকরী তালিম দেয়া হয়েছে। কাজেই যে ব্যক্তি এই পঞ্চ রোকনকে যাথাযথভাবে আদায় করে তার জীবন পূর্ণ ইসলামি জিন্দেগিতে রূপায়িত হতে বাধ্য। সে জীবনের কোনো ব্যাপারে ইসলামি জিন্দেগির খেলাফ করতে পারে না। কাজেই তার বেহেশত লাভের পথে কোনো প্রকার অন্তরায় থাকতে পারে না। এই জন্যই যারা ইসলামের পঞ্চ রোকনকে যথাযথবাবে আদায় করবে হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বেহেশতি হওয়ার সুসংবাদ প্রদান করেছেন।

ইসলামের এই পঞ্চ রোকনের মধ্যে কীভাবে আমাদেরকে পূর্ণ ইসলামের অনুসরণের বাস্তব তালিম দেয়া হয়েছে তৎসম্পর্কে সামান্য কিছু আলোচনা করছি। আজ থাকছে কালেমার গুরুত্ব।

এই কালেমা ইসলামের মূল ভিত্তি ও সর্বপ্রধান রোকন। রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পূর্ণ আন্তরিক বিশ্বাসের সঙ্গে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ এই কালেমার সাক্ষ্য প্রদান করবে তার জন্য দোযখের আগুন হারাম হয়ে যাবে’ (মুসলিম)।

অন্য এক হাদিসে আছে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কেউ কালেমার ওপর ঈমান এনে মৃত্যুমুখে পতিত হলে সে অবশ্যই বেহেশতে দাখিল হবে’ (মুসলিম)। তোতা পাখির ন্যায় না বুঝে কালেমা মুখে উচ্চারণ করলে দোযখের আগুন হারাম হবে না এবং বেহেশত ওয়াজিব হবে না। বরং এজন্য আবশ্যক কালেমার অর্থ বুঝে মুখে একরার করা এবং একরার অনুযায়ী সন্দেহাতীতভাবে অটল অবিচল আন্তরিক বিশ্বাস স্থাপন করা।

কালেমায় আমাদের দুটি জিনিসের ওপর ঈমান আনতে হয়-
(১) আল্লাহ তায়ালার ওয়াহদানিয়াত। (দুই) রাসূলে পাকের (সা.) রিসালাত। আল্লাহর ওয়াহদানিয়াত সম্পর্কে মোটামুটি এরূপ ঈমান আনতে হবে যে, আল্লাহ তায়ালা এক। তার জাত ও সিফাত এ কোনো শরিক নেই। তিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা, জীবনদাতা, সংহারকর্তা। কারো উপকার করা বা ক্ষতি করা, কাউকে ধন-দৌলত দান করা অথবা নির্ধারণ করা এবং কাউকে সম্মানিত করা বা অসম্মানি করা একমাত্র তারই ইচ্ছায়। তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, ও সর্বশক্তিমান। সুতরাং তিনি আমাদের একমাত্র মাবুদ অর্থাৎ একমাত্র উপাস্য প্রভু ও মনিব। কাজেই আমাদের একমাত্র তাঁরই ইবাদত করতে হবে এবং তার আদেশ-নিষেধ মেনে চলতে হবে।

রাসূলে করিম (সা.) এর রিসালাত সম্পর্কে মোটামুটি এভাবে ঈমান আনতে হবে যে, হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ পয়গম্বর। আল্লাহ তায়ালা তাকে এ জন্যই প্রেরণ করেছেন যেন বিশ্বমানব তার অনুকরণ ও অনুসরণ করে খোদা প্রাপ্ত হতে পারেন। তার আনুগত্য আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য আর তার নাফরমানি আল্লাহ তায়ালার নাফরমানি। একটু চিন্তা করে দেখা দরকার, যারা আল্লাহর ওয়াহদানিয়াত ও রাসূলে করিম (সা.) এর রিসালাতের ওপর এভাবে পুরোপুরি ঈমান আনে তারা কি কখনো জীবনের কোনো ক্ষেত্রে আল্লাহ ও রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করতে পারে? তারা কি জীবনের কোনো ব্যাপারে ইসলামি জীবনের খেলাফ করতে পারে? কখনোই নয়। এজন্যই তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কালেমার ওপর যে পূর্ণ ঈমান এনেছে তার জন্য জাহান্নাম হারাম ও বেহেশত ওয়াজিব।  চলবে...

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে