ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

যে কারণে ‘সমাজচ্যুত’ একটি পরিবার

সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০১:১০, ১২ নভেম্বর ২০১৯
যে কারণে ‘সমাজচ্যুত’ একটি পরিবার
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি সমাধান করতে স্থানীয় মাতব্বরদের শরণাপন্ন হন তারা। কিন্তু আর্থিকভাবে লাভ না পেয়ে এক ভাইয়ের পরিবারকে ‘সমাজচ্যুত’ করে রাখে গ্রামের প্রভাবশালী মাতব্বররা। এতেই শেষ নয়, পরিবারের সদস্যদের মসজিদে নামাজ পড়া ও বাজারে পণ্য কিনতে নিষেধ করা হয়েছে। 

এমন ঘটনা ঘটেছে সিলেটের জৈন্তাপুরের দরবস্ত ইউপির লক্ষ্মীপ্রসাদ (কান্দিগ্রাম) গ্রামে। এদিকে ‘সমাজচ্যুত’ পরিবারের দুই সদস্য শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে মসজিদে গেলে তাদের ওপর হামলা চালায় হয়। এক পর্যায়ে তাদের বাড়িতেও ভাঙচুর করে মাতব্বরের অনুসারীরা। এ ঘটনায় আহত সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন। 

অভিযোগপত্রের তথ্যানুযায়ী, লক্ষ্মীপ্রসাদের (কান্দিগ্রাম) আপন দুই ভাই বশির আহমদ ও গুলজার আহমদের মধ্যে পৈত্রিক জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ ঘটনায় বশির আহমদ বিষয়টি গ্রামের সালিশের শরণাপন্ন হন। গ্রামের মাতব্বর আহমদ আলীকে টাকা পয়সা দিতে না পারায় গুলজার আহমদের পক্ষালম্বন করে সালিশে বশিরের পরিবারকে সমাজচুত্য করে রাখেন। গত দেড় বছর থেকে নিরিহ পরিবারকে সমাজচ্যুত (একঘরী) করে রাখা হয়েছে। এমনকি পরিবারের সদস্যরা মসজিদ রাস্তাঘাট হাট-বাজারে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না।

Advertisement

অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার দুপুরে সরেজমিনে তদন্ত করেন জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি শ্যামল বনিক। স্থানীয়রা তাকে জানায়, দুই ভাইয়ের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় মাতব্বররা নিরীহ পরিবারের কাছে আর্থিক লাভের চেষ্টা করে। সেই লাভ না পেয়ে অন্যায়ভাবে পরিবারটিকে সমাজচ্যুত করে রাখে। তারা অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে দাবি জানান।

জৈন্তাপুর থানার ওসি শ্যামল বণিক বলেন, সমাজচ্যুত করে রাখা আইনগত অপরাধ। অভিযোগটি তদন্ত সাপেক্ষে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। এ মামলায় আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকেএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!