জমি বুঝে পেলেন বীরাঙ্গনা আফিয়ার মেয়ে
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার সহযোগিতায় জমির দখল বুঝে পেয়েছেন বীরাঙ্গনা আফিয়া খাতুনের মেয়ে রোকসানা বেগম।
দাদির দেয়া দানপত্র অনুযায়ী তিন বছর চেষ্টার পর ছয় শতক জমি দখলমুক্ত করেন থানার এসআই আরিফ হোসেন।
সাংবাদিক ফাহাদ পাটোয়ারী জানান, দুই থেকে তিন বছরের চেষ্টায় বেদখল জমিটি বীরাঙ্গনা পরিবারের সদস্য রোকসানা বেগম বুঝে পেয়েছেন। এতে পুলিশ বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা, বিশ্বাস বেড়েছে।
বীরাঙ্গনা আফিয়া খাতুনের মেয়ে রোকসানা বেগম জানান, চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ ও এসআই আরিফ হোসেনের চেষ্টায় জমির মালিকানা বুঝে পেয়েছেন। এছাড়া সাংবাদিক শাহাজাদা এমরান মাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। এতে জমি উদ্ধার, মা বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি ও সরকারি জমি-বাড়ি বরাদ্দ পেয়েছেন।
চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই আরিফ হোসেন জানান, ওসি আব্দুল্লাহ আল মাহফুজের নির্দেশনায় বীরাঙ্গনা আফিয়া খাতুনের মেয়ের জমি উদ্ধারে ভূমিকা পালন করেন। এতে পাঁচ থেকে ছয় মাস দফায় দফায় সালিশ ও লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়েছে। মূলত পুলিশের চাপে দখলদাররা জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা আফিয়া খাতুন দেশের গর্ব। তাদের কল্যাণেই একটি স্বাধীন দেশ ও পতাকা পেয়েছি। আফিয়া খাতুনের মেয়ের মালিকানার জমি দখলে থাকার বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পারি। পরে জমিটি উদ্ধার করা হয়েছে। এতে আমরা আনন্দিত।
১৯৩৯ সালে ফেনীর ঐহিত্যবাহী বরইয়া চৌধুরী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন আফিয়া খাতুন খঞ্জনী। তিনি হাসমত আলী চৌধুরী ও মাতা মাসুদা খাতুন দম্পতির সন্তান। এক সময় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগন্নাথদিঘি ইউপির সোনাপুর গ্রামের রুহুল আমিনের সঙ্গে আফিয়া খাতুনের বিয়ে হয়। এরপর তাদের ঘরে জন্ম নেয় রোকসানা। তবে মুক্তিযুদ্ধে সম্ভ্রম হারালে স্বামী ও বাবার বাড়িতে থাকার সুযোগ হয়নি আফিয়ার। তখন আফিয়ার শাশুড়ি নাতিনের নামে ছয় শতক জমি দানপত্র করে যান। এরপর আফিয়া খাতুন বস্তিতে বসবাস করলে মেয়ে রোকসানাও মায়ের সঙ্গে বস্তিতে চলে যান। পরে সংবাদপত্রে আফিয়া খাতুন খঞ্জনীর খবর প্রকাশ হলে ২০১৮ সালের ১৭ জুলাই বীরঙ্গনা স্বীকৃতি পান। এরপর তিনি একটি সরকারি জমি ও বাড়ি উপহার পান। এছাড়া দাদির দানপত্রের সন্ধান পাওয়ায় জমি দখলে যান আফিয়ার মেয়ে রোকসানা। কিন্তু জমিটি কোনোভাবেই দখলমুক্ত করা যায়নি। পরে সংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করলে পুলিশ বিভাগ জমি উদ্ধারে ভূমিকা রাখে।