ছেলের মরদেহ চেয়ে ফিলিস্তিনি মায়ের আকুতি
‘আমি শুধু চাই ওরা আমার ছেলেটিকে ফিরিয়ে দিক। শেষবারের মতো আমি আমার ছেলেটিকে একবার দেখতে চাই। আমার ছেলেকে আমি বিদায় জানাতে চাই। আমি তাকে আমার আশেপাশে কোনো জায়গায় দাফন করতে চাই যাতে আমি ওর কবর দেখতে পারি।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব আকুতি করছিলেন ইসরায়েলিদের হাতে নিহত ফিলিস্তিনি মোহাম্মদ আল নাইমের মা।
মোহাম্মদের মা মিরভাত বলছিলেন, আমার যুবক ছেলেটিকে হত্যা করা হয়েছে, এটা কি ভয়ংকর নয়? ওরা যা করেছে সেটি মানবতার বিরুদ্ধে একটি বড় অপরাধ।
এর আগে রোববার গাজার খান ইউনিসে এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যার পর তার মরদেহ বুলডোজার দিয়ে পিষে দিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী।
.png)
দেশটির গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে কয়েক জন ফিলিস্তিনি নাগরিকের ওপর গুলি করলে ওই ব্যক্তি নিহত হন। এরপর ওই ফিলিস্তিনির মরদেহ বুলডোজার দিয়ে পিষে দিতে দেখা যায় এক ভিডিওতে। এরইমধ্যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
নিহত মোহাম্মদের মা মিরভাত বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে অন্য কোনো কিছুর তুলনা নেই, মিল নেই। ওই ছিল আমার সব। তিনি আরো বলেন, আমার ছেলে অত্যন্ত বিনয়ী, ধর্মীয় এবং নৈতিক ছিল। মোহাম্মদ এভাবে আমাকে ছেড়ে চলে যাবে আমি ভাবতেও পারিনি।
অবিলম্বে ছেলের মরদেহ ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মিরভাত বলেন, ছেলেকে এক নজর দেখার অধিকার আমার আছে। তাই তার মরদেহ আমাকে ফেরত দেয়া হোক।
একই আকুতি জানিয়েছেন মোহাম্মাদ নাইমের স্ত্রী হিবাও। তিনি বলেন, আমাদের দেড় বছর আগে বিয়ে হয়েছে। এক বছরের কম বয়সী একটি সন্তান রয়েছে আমাদের। আমার ছোট্ট শিশুটি তার বাবাকে ছাড়া কিভাবে বড় হবে? তিনি আরো জানান, মোহাম্মদ একজন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন এবং তার আয়েই সংসার চলত।
এদিকে, মোহাম্মদ হত্যার সত্যতা স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তারা বলেছে, একটি বিস্ফোরক পেতে রাখার চেষ্টা করায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।
সূত্র- পার্সটুডে