ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনে পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধই যৌথ ঘোষণার সবচেয়ে কঠিন বিষয় হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) অবস্থানের পার্থক্যের কারণে ঐকমত্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এর আগে মে মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও এই মতবিরোধের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে চার দিনেরও বেশি সময় ধরে ব্রিকসের ‘শেরপা’দের ধারাবাহিক আলোচনা ও ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয়। ঘোষণায় সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপদ বাণিজ্যপথের ওপর জোর দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
.png)
সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ব্রিকসের অন্যান্য সদস্য দেশের নেতারা। এবারের ব্রিকস জোটে ১১টি পূর্ণ সদস্য দেশ রয়েছে এবং সম্মিলিতভাবে তারা বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে।
সম্মেলনের আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। মোদি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য সংলাপ ও কূটনীতির পথেই এগোতে হবে। একই সঙ্গে তিনি নৌ চলাচল, বাণিজ্যপথ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
অন্যদিকে, ব্রিকস সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে মোদি বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর ভূমিকা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং উদীয়মান দেশগুলোর জন্য আরও প্রতিনিধিত্বের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।