ঢাকা,  শনিবার   ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মুখোমুখি হচ্ছেন মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৪৯, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মুখোমুখি হচ্ছেন মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট
ফাইল ছবি : রয়টার্স

ভারতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের জোর প্রস্তুতি চলছে। ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জু ফেহংয়ের এক বার্তায় দুই দেশের শীর্ষ নেতার সম্ভাব্য এই বৈঠকের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

বৈঠকটি চূড়ান্ত হলে গত তিন বছরের মধ্যে টানা তৃতীয়বারের মতো মুখোমুখি আলোচনায় বসবেন মোদি ও শি। এর আগে রাশিয়ার কাজান ও চীনের তিয়েনজিনে অনুষ্ঠিত বহুপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তারা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।

Advertisement

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাষ্ট্রদূত জু ফেহং বলেন, বেইজিং ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের কৌশলগত নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া, পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো, মতপার্থক্য দূর করা এবং একে অপরের উন্নয়নে অংশীদার হওয়ার মাধ্যমে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখতে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে চীন।

বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন।

সম্মেলনে বাণিজ্য ও আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

২০১৯ সালে তামিলনাড়ুতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ভারত-চীন অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনের পর এটিই হবে শি চিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর।

লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) ঘিরে সংকটের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমিত করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে শির এই সফর ও সম্ভাব্য মোদি-শি বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে চীনে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বামীও দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর করতে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে তিনি গত বছর মোদিকে দেওয়া শি চিনপিংয়ের বক্তব্যের কথাও তুলে ধরেন।

সেখানে শি বলেছিলেন, চীন ও ভারত পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং সহযোগিতার অংশীদার। একে অপরের জন্য হুমকি না হয়ে দুই দেশ উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন দোরাইস্বামী।

এরই মধ্যে ১ সেপ্টেম্বর বিশকেকে অনুষ্ঠিত এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে পারিবারিক ছবি তোলার আগে মোদি ও শি করমর্দন করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ছিলেন।

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য মোদির আমন্ত্রণ গ্রহণ করে শি তাকে ধন্যবাদ জানান এবং ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বে চীনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ফলে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সম্ভাব্য মোদি-শি বৈঠককে এবারের ব্রিকসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!