শুক্রবার ভারতের উদ্দেশে তেহরান ছাড়ার আগে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, এবারের সম্মেলনের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিল্প ও বিজ্ঞান খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বহুপক্ষীয়তার অবস্থান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
বিশ্ব রাজনীতিতে ব্রিকসের ভূমিকা তুলে ধরে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমানে জোটটির সদস্যসংখ্যা ২১। এর মধ্যে ১১টি মূল সদস্য এবং নতুন ১০ সদস্যকে ‘ব্রিকস প্লাস’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
.png)
তিনি বলেন, ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশের বেশি। বিশ্বের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৩৫ শতাংশও এসব দেশের আওতাভুক্ত। ফলে অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিল্প, বিজ্ঞান ও অন্যান্য ক্ষেত্রে জোটটির বড় ধরনের সক্ষমতা রয়েছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, ব্রিকস প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্যই হলো একতরফা আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। এর মাধ্যমে দেশগুলো যেন নিজেদের স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে পারে, সেই সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
এবারের ব্রিকস সম্মেলনের মূল ভাবনা সংহতি, স্থায়িত্ব, প্রতিরোধ ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্য সামনে রেখে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, আর্থিক, শিল্প, বৈজ্ঞানিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বাড়ানোর প্রত্যাশা রয়েছে।
ব্রিকসের আর্থিক সক্ষমতার কথাও তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিনিয়োগ ও যৌথ কার্যক্রম সহজ করতে আর্থিক ও মুদ্রাব্যবস্থার ক্ষেত্রে ব্রিকস ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক লেনদেনে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ডলারের ওপর নির্ভরতা ছাড়াই অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে কাজ করছে ব্রিকস। একই সঙ্গে একতরফা আধিপত্য এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর অতিরিক্ত চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াও জোটটির অন্যতম লক্ষ্য।
১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার উপযুক্ত সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল, ভারতসহ অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের অংশগ্রহণ জোটের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনা জোরদারের সুযোগ তৈরি করবে।
ভারতের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাস দীর্ঘ। তাদের মধ্যে অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণেরও অনেক সুযোগ রয়েছে।
ইরান ও ভারত সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তেহরান বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময় করতে পারবে। এ আলোচনা সম্মেলনের সাধারণ অধিবেশনের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমেও হবে।
একতরফা আধিপত্য ও ‘ডমিনেশন সিস্টেম’-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্রিকস কতটা ভূমিকা রাখতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, মূলত একতরফা আধিপত্য মোকাবিলার অন্যতম উদ্দেশ্যেই ব্রিকস প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এবারের সম্মেলনের বিষয়বস্তুও সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি অত্যন্ত জটিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকটি শক্তিধর দেশ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর যে ধরনের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে, তা মোকাবিলায় নতুন পরিকল্পনা ও কৌশল প্রয়োজন।
পেজেশকিয়ান বলেন, এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে উদ্ভাবন ও সহযোগিতা বাড়ানো জোটটিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় একতরফা আধিপত্যের প্রবণতাও কমাতে সহায়তা করতে পারে।
শেষে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের অংশগ্রহণ দেশটির জন্য কাঙ্ক্ষিত ও ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।