ঢাকা,  শুক্রবার   ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

স্পেনের আগুনে থেমে গেল আলিফের স্বপ্ন

কাজের অনুমতি পাওয়ার দুই দিন পর মৃত্যু
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:০৫, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্পেনের আগুনে থেমে গেল আলিফের স্বপ্ন
কাজের অনুমতি পাওয়ার দুই দিন পর মৃত্যু

পরিবারের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন নিয়ে মাত্র দুই মাস আগে স্পেনে পাড়ি জমিয়েছিলেন গাজীপুরের কালীগঞ্জের ইউসুফ হাসান আলিফ (২৫)। নতুন দেশে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগে পেয়েছিলেন কাজের অনুমতিও। কিন্তু কাজ শুরুর আগেই মাদ্রিদের একটি সাইকেল গ্যারেজে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারান তিনি। শুক্রবার সকালে কফিনবন্দী হয়ে দেশে ফিরেছে সেই তরুণের মরদেহ। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে কালীগঞ্জের উত্তরগাঁও গ্রামের পরিবেশ।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুক্রবার সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে আলিফের মরদেহবাহী বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে মরদেহ বুঝে নেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর কফিন পৌঁছে যায় কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরগাঁও গ্রামের বাড়িতে। বাদ জুমা উত্তরগাঁও উত্তরপাড়া জামে মসজিদে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
আলিফের মৃত্যুর আগে সহকর্মীদের সঙ্গে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠানো একটি বার্তা এখন পরিবারের কাছে হয়ে আছে হৃদয়বিদারক স্মৃতি। আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে আটকা পড়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে।’ এরপর আর কোনো বার্তা আসেনি। থেমে যায় ২৫ বছরের তরুণটির জীবনের সব স্বপ্ন।
গত ৩০ আগস্ট স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে মাদ্রিদের আরগানসুয়েলা এলাকার পালোস দে লা ফ্রন্তেরা এলাকার কাইয়ে কানারিয়াস সড়কের একটি সাইকেল গ্যারেজে আগুন লাগে। ওই সময় গ্যারেজের ভেতরে আটকা পড়েন আলিফ। বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট ও শ্বাসনালিতে মারাত্মক দাহজনিত ক্ষতির কারণে তিনি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে মাদ্রিদ সিটি কাউন্সিলের ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পরে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আলিফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্পেনপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। ৪ সেপ্টেম্বর মাদ্রিদের বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
১০ সেপ্টেম্বর মাদ্রিদের স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের টিকে-১৩৬০ ফ্লাইটে আলিফের মরদেহ ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে টিকে-৭৪২ ফ্লাইটে ইস্তাম্বুল থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে তাঁর মরদেহ।
নিহত ইউসুফ হাসান আলিফ কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরগাঁও এলাকার আব্দুল মোতালিব ও রহিমা খাতুন দম্পতির ছেলে। জীবিকার প্রয়োজনে স্পেনে গিয়ে তিনি ফুড ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ করছিলেন।
আলিফের স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, প্রবাসের আয় দিয়ে নিজের ও পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন দেখতেন তিনি। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে মাত্র দুই মাস এগোতেই মাদ্রিদের আগুন কেড়ে নিল তাঁর প্রাণ। বিদেশ যাওয়ার সময় যে তরুণকে স্বজন-প্রতিবেশীরা হাসিমুখে বিদায় দিয়েছিলেন, শুক্রবার সেই আলিফই ফিরলেন কফিনবন্দী হয়ে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘সকালে প্রবাসী বাংলাদেশি ইউসুফ হাসান আলিফের মরদেহ বাড়িতে এসে পৌঁছেছে। জানাজার পর তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।’

Advertisement

 

 

ডেইলি-বাংলাদেশ/DB-DH03-00
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!