ঢাকা,  শুক্রবার   ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে মার্কিন ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:৪০, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে মার্কিন ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের একটি চালকবিহীন নৌযান (ইউএসভি) ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চালকবিহীন নৌযান (ইউএসভি) ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি চালকবিহীন নৌযান মোতায়েন করেছে। ইরানের দাবি, তাদের বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি মোকাবিলায় যেতে ভয় পাওয়ার কারণেই এসব নৌযান ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আইআরজিসি নৌবাহিনী শত্রুপক্ষের একটি চালকবিহীন নৌযানে হামলা চালায়। ‘সেইলড্রোন’ ধরনের ওই নৌযানটির হাল নম্বর ছিল ৫৮৩৮। হামলায় নৌযানটি ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি এর ‘আগ্রাসী মিশন’ও ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।

Advertisement

আইআরজিসি নৌবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রণালিটি তাদের ‘বুদ্ধিদীপ্ত নিয়ন্ত্রণ ও গোয়েন্দা নজরদারির’ আওতায় রয়েছে এবং সেখানে যেকোনো বৈরী উপস্থিতিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিমের তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংস করা নৌযানটি ‘সেইলড্রোন এক্সপ্লোরার’। প্রায় ৭ মিটার দীর্ঘ এই চালকবিহীন নৌযান দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করতে পারে। এতে ক্যামেরা, যোগাযোগব্যবস্থা ও বিভিন্ন ধরনের সেন্সর রয়েছে। এসব প্রযুক্তি মূলত নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সামুদ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হয়।

এর আগে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর এবং টাস্কফোর্স-৫৯ এই অঞ্চলে সেইলড্রোন এক্সপ্লোরার মোতায়েন করেছিল। বাহরাইনে অবস্থিত টাস্কফোর্স-৫৯-এর অন্যতম দায়িত্ব ছিল চালকবিহীন নৌযান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো।

ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বাহরাইনের নৌঘাঁটিও সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের সময় ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল এবং হামলার পর ঘাঁটিটি কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা হারায়।

তাসনিমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ওই ধরনের সেইলড্রোন ওমানের খাসাব অক্ষ এলাকায় অবস্থানরত একটি মার্কিন ইউনিটের মাধ্যমে ব্যবহার করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগকারী এই প্রণালির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়। ফলে অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

ডেইলি-বাংলাদেশ/DB-M-02
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!