ঢাকা,  শনিবার   ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

হাইটেক পার্কে বিপুল বিনিয়োগ, মিলছে না প্রত্যাশিত সুফল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮:২২, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হাইটেক পার্কে বিপুল বিনিয়োগ, মিলছে না প্রত্যাশিত সুফল
ছবি: সংগৃহীত

দেশে একের পর এক হাইটেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণ হলেও প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না। অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়া হলেও দক্ষ জনবল, শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগ, প্রশিক্ষণ ও ব্যবসায়িক সহায়তার ঘাটতিতে পার্কগুলোর সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) ‘আজকের অ্যাজেন্ডা’ ভার্চুয়াল সিরিজের ‘হাইটেক পার্কস: মিশন কী? বাস্তবতা কী?’ শীর্ষক আলোচনায় এ চিত্র উঠে আসে।

আলোচনায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. এম. রকনুজ্জামান বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে ৩৯টি হাইটেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। শুধু অবকাঠামো তৈরি করলেই প্রযুক্তি বিনিয়োগ আসবে এ ধারণা সঠিক প্রমাণিত হয়নি। তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

Advertisement

যশোর হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম বলেন, পার্কে বর্তমানে ৪০টি কোম্পানি থাকলেও কার্যকর ইকোসিস্টেম সহায়তা নেই। কোম্পানিগুলোকে উদ্যোক্তা নয়, ভাড়াটে হিসেবে দেখার প্রবণতা, দক্ষ জনবলের ঘাটতি, দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ ও বেশি ইউটিলিটি খরচ বড় সমস্যা।

রাজশাহীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নেট্রো সিস্টেমস ও টেলজেনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী মো. আশাফুদ্দোজা শিশির বলেন, রাজশাহীর প্রযুক্তি উদ্যোগগুলো বৈশ্বিক পর্যায়ে পৌঁছালেও হাইটেক পার্কে কোম্পানিগুলোর সুবিধা এখনো মূলত কর অব্যাহতিকেন্দ্রিক। স্টার্টআপগুলোর জন্য সরাসরি সহায়তাও সীমিত।

ইউওয়াই সিস্টেমসের চেয়ারপারসন ফারহানা এ. রহমান বলেন, কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে সহায়ক সেবা না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের বরাদ্দ ফিরিয়ে দিয়েছে।

ডিএনএস সফটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফেল কবির বলেন, শুধু কর প্রণোদনার ওপর নির্ভর না করে মাদারবোর্ড ও চিপ ফ্যাব্রিকেশনের মতো মৌলিক প্রযুক্তি উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সাবেক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তাইয়েব বলেন, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এলাকায় পার্ক স্থাপন করাও বড় সমস্যা। বিদ্যমান ইপিজেড ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে পার্ক স্থাপনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে শিল্পের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য শুধু ভৌত অবকাঠামো নয়, দক্ষ মানবসম্পদ, সফট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও শিল্পচালিত প্রশিক্ষণ গড়ে তুলতে হবে।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, হাইটেক পার্কের মডেল পরিত্যাগ নয়, বরং কার্যকর ইউটিলিটি সুবিধা, জবাবদিহি ও ব্যবসায়িক সহায়তা নিশ্চিত করে নতুনভাবে সাজাতে হবে। কোম্পানিগুলোকে শুধু ভাড়াটে নয়, উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করলেই এ খাতে বিনিয়োগের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!