ঢাকা,  শনিবার   ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের আহ্বান: ফজলুর রহমান

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:৪৩, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের আহ্বান: ফজলুর রহমান
সংগৃহীত ছবি

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সমন্বয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান।

তিনি বলেন, বাংলার সংস্কৃতি আজ নানা সংকটে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে কবীর ও লালনের মানবতাবাদী চিন্তা ও দর্শনকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে হবে।

Advertisement

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মাঠে লালন বিশ্বসংঘ আয়োজিত আট বিভাগব্যাপী ‘কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ফকির লালন শাহের বাণী ‘ভক্ত কবীর জাতে জোলা প্রেমভক্তিতে মাতোয়ালা, ধরেছে সে ব্রজের কালা দিয়ে সর্বস্ব ধন তাই’কে উৎসবের প্রতিপাদ্য করা হয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও রংপুর বিভাগে পর্যায়ক্রমে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর প্রতিনিধি ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মিজানুর রহমান।

মো. ফজলুর রহমান বলেন, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, সুরমা-কুশিয়ারাসহ অসংখ্য নদীর তীরে হাজার বছর ধরে বাংলার যে সমৃদ্ধ সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা আজ নানা কারণে হুমকির মুখে। এই বাস্তবতায় কবীর-লালনের ভাবসংগীত উৎসব একটি আলোকবর্তিকার মতো কাজ করছে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ছিল সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক দেশ প্রতিষ্ঠা করা। তরুণ প্রজন্মকে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অর্জন যেন বৃথা না যায়। কবীর ও লালনের চিন্তা-দর্শনকে ধারণ করে মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। প্রয়োজনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এই পথের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. আহসানুল হাদী বলেন, কবীর ও লালনের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সুফি-সাধকরাও সংগীত ও কবিতার মাধ্যমে মানবতা ও স্রষ্টার প্রেমের কথা বলেছেন। তবে বর্তমানে কিছু ব্যক্তি লালন সাঁইয়ের গানের বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে সুফি সংগীত ও মাজারকেন্দ্রিক সংস্কৃতিচর্চায় বাধা সৃষ্টি করছেন। এর প্রতিবাদ জানান তিনি।

তিনি বলেন, কবীর ও লালন উভয়েই একেশ্বরবাদী চিন্তায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং মানুষের পাশাপাশি সব জীবের প্রতি ভালোবাসা ও মহান স্রষ্টার প্রেমের সাধনার কথা বলেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রিয়াঙ্কা গোপ বলেন, সন্ত কবীর লোভ, হিংসা, বিদ্বেষ, কামনা ও ক্রোধের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক জীবনযাপনের শিক্ষা দিয়েছেন। এই দর্শন উপলব্ধি করতে পারলে মানুষের মধ্যে বিভেদ এতটা বিস্তৃত হওয়ার কথা নয়।

তিনি আরও বলেন, কবীর, লালন সাঁই ও কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টির ধরন আলাদা হলেও তাদের ভাবসাধনার মূল সুর মানবতা ও প্রেমের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মিজানুর রহমান বলেন, একসময় লালনকে মূলত লোকসংগীতের পরিসরে পরিচিত করা হলেও বর্তমানে সরকার তাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে। লালনের সংগীত ও দর্শনকে আরও বিস্তৃতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে কবীর-লালনের দর্শন ও সংগীত নিয়ে আলোচনা করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. প্রিয়াঙ্কা গোপ, অধ্যাপক ড. আহসানুল হাদী, লালনপন্থী সাধক ফকির আবুল হোসেন শাহ, কবীরপন্থী সাধক নিঝুম পাইনকা, গুরুদুয়ারা নানকশাহীর পক্ষে ডা. এম কে রায় এবং গবেষক সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবুসহ অনেকে।

স্বাগত বক্তব্যে লালন বিশ্বসংঘের প্রধান নির্বাহী ও কবীর-লালন গবেষক আবদেল মাননান বলেন, সন্ত কবীর ও লালন একই নদীর দুই তীরের মতো। তাদের দর্শন বর্তমান সংকটময় সময়েও মানুষকে সাহস ও মানবতার পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য ও লালন বিশ্বসংঘের চেয়ারম্যান দর্শনাচার্য প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান।

উদ্বোধনী পর্ব শেষে কবীর-লালনের সংগীত পরিবেশন করেন শ্রীমঙ্গলের কবীরপন্থী সম্প্রদায়, ঢাকার রবিদাসপন্থী সম্প্রদায়, নানকপন্থী শিখ সম্প্রদায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিল্পী এবং কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশনের শিল্পীরা।

আয়োজকরা জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের আট বিভাগে উৎসবটি অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বরিশাল, ১৯ সেপ্টেম্বর খুলনা, ২৫ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ, ২ অক্টোবর রাজশাহী, ৪ অক্টোবর রংপুর, ২৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম এবং ৩০ অক্টোবর সিলেট বিভাগে উৎসবের আয়োজন করা হবে।

আট বিভাগব্যাপী এ উৎসব সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!