ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

মক্কা চুক্তি: ইয়েমেনের হুথিদের সতর্কবার্তা দিলো পাকিস্তান

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:৪৮, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মক্কা চুক্তি: ইয়েমেনের হুথিদের সতর্কবার্তা দিলো পাকিস্তান
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। ফাইল ছবি

ইয়েমেনের হুথিদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কার্যকর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে জিও নিউজের ‘আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ’ অনুষ্ঠানে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। 

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কৌশলগত চুক্তিটি কার্যকর করা সম্ভব কিনা— জানতে চান সঞ্চালক শাহজেব খানজাদা। 

Advertisement

জবাবে খাজা আসিফ বলেন, গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—তিন দেশের যেকোনো একটি সদস্যের ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আমরা চুক্তির শর্তাবলি মেনে চলতে বাধ্য এবং কোনো আগ্রাসন চালানো হলে আমরা এই চুক্তির প্রতি সম্মান জানাব। 

তিনি বলেন, এটি একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং ইয়েমেনে যা ঘটছে তা যদি বিনা উস্কানিতে আগ্রাসনের ফলে বা সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে অবশ্যই চুক্তিটি কার্যকর হবে; এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। আমরা চুক্তির শর্তাবলি মেনে চলতে বাধ্য এবং পাকিস্তান তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে না।

এর আগে, মঙ্গলবার হুথিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান এলাকায় কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। 

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কিং খালিদ বিমানঘাঁটি এবং সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর কয়েকটি স্থাপনা। হামলার পর একটি তেল স্থাপনায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। এতে কমপক্ষে ৭৩ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যার মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। 

জবাবে সৌদি আরবও ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে। 

এদিকে, হুথিদের হামলার পর সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আসিফ বলেন, এ ধরনের কোনো যোগাযোগের বিষয়ে তিনি অবগত নন। 

তবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, চলমান সংঘাত আর বিস্তৃত হবে না এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, আশা করি, শিগগিরই হুথিরা উপলব্ধি করবে যে, তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়কে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

হুথিদের প্রধান সমর্থক ইরানের উদ্দেশ্যে খাজা আসিফ বলেন, মুসলিম বিশ্বে ইরানের প্রতি সহানুভূতি রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু একটি দেশের দ্বিপাক্ষিক বিরোধকে কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে।

এদিকে, পাকিস্তানের এই হুঁশিয়ারির পর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন সামরিক সমীকরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: জিও নিউজ, ডন

ডেইলি-বাংলাদেশ/DB-N-04
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!