খাচ্ছে মায়ের দুধ, নিজেও দিচ্ছে দুধ
খাচ্ছে মায়ের দুধ, সেসঙ্গে নিজেও দিচ্ছে দুধ। এমন বিরল বাছুরের সন্ধান মিলেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মহাদেবপুর গ্রামের কনজ বিশ্বাসের বাড়িতে।
এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর পরামর্শে সে বাছুরের দুধ মন্দিরে দেয়া হচ্ছে।
বাছুরের মালিক কনজ বিশ্বাস বলেন, বাছুরটির নাম দিয়েছি সরস্বতী। গত একমাস ধরে সরস্বতী প্রতিদিন ৩০০-৪০০ গ্রাম দুধ দিচ্ছে। আর সরস্বতীর মা দিচ্ছে তিন কেজি করে।
তিনি আরো বলেন, পরিবারের সদস্যদের দুধ খাওয়ার জন্য একটি গাভি লালন-পালন করে আসছিলাম। তিন বছর আগে গাভিটির একটি বাছুর হলে নাম রাখি গঙ্গা। এরপর গত বছরের ৯ ডিসেম্বর গাভিটির আরেকটি বাছুর হলে নাম রাখি সরস্বতী। গত এক মাস হলো হঠাৎ করে সরস্বতীর ছোট্ট ওলান থেকে দুধ বের হতে দেখা যায়। এই অবস্থায় একদিন তার ওলান থেকে দুধ বের করার চেষ্টা করে দেখা যায়, প্রায় ৩০০-৪০০ গ্রাম দুধ বের হয়েছে।
বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানালে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেন। এরপর তিনি একজন পশু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে তিনি বাছুরের দুধ ওষুধের মাধ্যমে শুকিয়ে ফেলার পরামর্শ দেন। কিন্তু এলাকাবাসী সেটার বিপক্ষে গিয়ে বাছুরের শরীর থেকে বের হওয়া দুধ মন্দিরে দেয়ার পরামর্শ দেন। প্রথম কয়েকদিন বাছুরের দুধ আমরা খেয়েছি, এখন মন্দিরে দিচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, বাছুরটিকে ঠিকমতো দোয়ালে আরো বেশি দুধ পাওয়া যেত। কিন্তু বাছুরের শরীরের কথা চিন্তা করে কম করে বের করছেন। এইটুকু না বের করলে মাটিতে ফোটা ফোটা ঝরে পড়ে।
সরেজমিনে কনজ বিশ্বাসের বাড়িতে দেখা যায়, তার স্ত্রী মৈত্রী বিশ্বাস বাছুরটির শরীর থেকে দুধ বের করছেন। এ সময় বাছুরটি তার মায়ের ওলান থেকে দুধ পান করছে। বাছুরটির ওলান থেকে ৩০০ গ্রামের মতো দুধ বের হওয়ার পর দোয়ানো বন্ধ করে দেন মৈত্রী বিশ্বাস।
মৈত্রী বিশ্বাস বলেন, এখনো বাছুরটির শরীরে দুধ রয়েছে। কিন্তু তার শরীরের কথা চিন্তা করে আর দুধ দোয়ানো হচ্ছে না।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এএসএম আতিকুজ্জামান জানান, এ জাতীয় ঘটনা খুবই কম শোনা যায়। তবে হরমনজনিত সমস্যায় অনেক সময় এটা হতে পারে। এ নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই, অল্পদিনেই এটা বন্ধ হয়ে যাবে।