ঢাকা,  রোববার   ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

[ বিনোদন ]

টেকনিশিয়ানদের ছাড়া শর্ট ফিল্মের ভবিষ্যৎ কী?

তানভীর আহম্মেদ সরকার 
প্রকাশিত: ১৩:২৪, ৬ মে ২০২০
টেকনিশিয়ানদের ছাড়া শর্ট ফিল্মের ভবিষ্যৎ কী?
ফাইল ছবি

শুটিং পাড়ার লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের হাঁকডাক বন্ধ হয়েছে বহু দিন। ওয়েবসিরিজ দেখে, ডালগোনা কফি বানিয়ে আজ  ক্লান্ত টলিউড। সৃষ্টিশীলতাকে কিছুটা চাঙ্গা রাখতেই লকডাউনের বাজারে হিড়িক লেগেছে শর্টফিল্মের। বাড়ি বসেই মেকআপের আলতো টাচ, টাইমারে কারিকুরি, আর একটা মানানসই স্ক্রিপ্ট— ব্যাস, চার-পাঁচ মিনিটের লকডাউন শর্টস তৈরি। আর শুধু শর্টসই বা কেন? বিভিন্ন চ্যানেলও বাড়ি বসেই মোবাইল শুট করা নতুন এপিসোড নিয়ে আসছেন দর্শকের দরবারে।

কলাকুশলীদের নিখুঁত অভিনয় হার মানাছে ভৌগোলিক দূরত্বকেও। এই যেমন দিন কয়েক আগে অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য নিজের বেহালার বাড়িতে বসে আন্দুলে প্রিয়াঙ্কাকে সঙ্গে নিয়ে বানিয়ে ফেলেছিলেন শর্টফিল্ম ‘শামুক’। দুইদিন আগে পরিচালক শিলাদিত্য মৌলিক অভিনেত্রী পায়েল সরকারকে নিয়ে বানিয়েছেন ‘একটি তারা’। কৃষ্ণকিশোর মুখোপাধ্যায় বানিয়েছেন ‘ব্লু বোট’। প্রযোজনা সংস্থা উইনডোজ তো সেই কবে থেকেই একের পর এক শর্ট ফিল্ম বানিয়েই চলেছে।

আর এতেই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। দ্বন্দ্ব না বলে বোধহয় ‘অভিমান’ বলাই ভাল। এই যে বাড়ি বসে শর্টফিল্ম, নতুন এপিসোড শুট করার হিড়িক তাতে অভিনেতা-পরিচালকদের শৈল্পিক বিকাশ ঘটলেও বাদ যাচ্ছে টেকনিশিয়ানরা। বাড়িতেই শুট, বাড়িতেই হচ্ছে মেকআপ, চুল বাঁধা থেকে ডায়লগ থ্রো সব কিছুই একা হাতেই করছেন অভিনেতারা। 

আর তাতে করেই পাহাড় জমেছে অসন্তোষের। ভারতীয় গণমাধ্যমকে এক মেকআপ আর্টিস্ট বলেন, এই যে একটি চ্যানেলে বাড়িতে বসেই রিয়ালিটি শো-র চারটে এপিসোড শুট হয়ে গেল, টেকনিশিয়ানদের ভাগ্যে কী জুটল?

শোনা যাচ্ছে এ নিয়ে ফেডারেশনের কাছেও ক্ষোভ জানিয়েছেন টেকনিশিয়ানদের একাংশ। বাড়িতে বসে শুট হলেও টেকনিশিয়ানদের ‘ভাগের টাকা’ যাতে দেয়া হয় সে বিষয়ে অনুরোধ করেছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনেমাটোগ্রাফার তো বলেই ফেললেন, এই সব গুচ্ছের শর্টফিল্ম নিয়ে আমি একটুও আপ্লুত নই। করছে, ভাল করছে। আমি গ্রাহ্যের মধ্যেই আনছি না। এর চেয়ে বাড়ি বসে একটু সিনেমা সংক্রান্ত পড়াশোনা করলে কাজে দিত। কী আর বলব!

কস্টিউম ডিজাইনার অভিষেক রায় আবার একেই ভবিষ্যৎ বলে ধরে নিয়েছেন। তিনি বলেন, কী করা যাবে। উপায় তো নেই। সবার একটা ক্রিয়েটিভ স্যাটিসফেকশন থাকে, সেটাকেই পূরণ করছে। তবে হ্যাঁ, পুরো বিষয়টা পার্ট না হতে পারাকে মিস করছি। কখনো মনে হচ্ছে এই জামাটা কেন পরল, একবার জিজ্ঞাসা করে নিতে পারত।

লকডাউনে সব কিছু এতটাই ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে, তাতে ভয় গ্রাস করছে টেকনিশিয়ান পাড়ায়। কবে শুটিং শুরু হবে কেউ জানে না। তত দিন কি তবে এভাবেই ফোনে ফোনে শুটিং চলবে? আর শুটিং শুরু হওয়ার পরেও তো রয়েছে একগুচ্ছ বিধিনিষেধ। তা হলে? আগামী এক বছর কি তবে টেকনিশিয়ানদের ‘ছুটি’? ফোন-ছবিই কি তবে ভবিষ্যৎ? উত্তরের জন্য সময়ের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/টিএএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!