ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

[ খেলা ]
বিদায় লর্ড লিওনেল মেসি

অশ্রুসিক্ত এক মহাকাব্যের অবসান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:০৭, ৮ অক্টোবর ২০২৬
অশ্রুসিক্ত এক মহাকাব্যের অবসান
ছবি: সংগৃহীত

অশ্রুসিক্ত লিওনেল মেসি, সতীর্থদের চোখে বাঁধভাঙা জল, আর গ্যালারিতে উপস্থিত ৮৬ হাজার দর্শকের সমবেত কান্না—সব মিলিয়ে এক বিষাদময় মহাকাব্যের সাক্ষী হলো বিশ্ব। হাজার হাজার মাইল দূরে টেলিভিশনের পর্দার সামনে বসে থাকা কোটি সাধারণ দর্শকেরও তখন বুক ভারী হয়ে আসছিল, চোখ বেয়ে নামছিল জল। ফুটবল বিধাতা যেন তার সবচেয়ে প্রিয় রাজপুত্রের বিদায়ের জন্য পুরো বিশ্বকে এক সুতোয় গেঁথেছিলেন। লর্ড লিওনেল মেসির এই চিরবিদায় বেলায় বিশ্ব কি ইতিহাসের সবচেয়ে জমকালো, আবেগঘন আর স্মরণীয় এক আয়োজনের সাক্ষী হয়ে গেল? উত্তরটি নিঃসন্দেহে—হ্যাঁ।

আজকের এই বিদায়ী ম্যাচটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না; এটি ছিল একটি যুগের অবসান, একটি জীবন্ত কিংবদন্তির মহাপ্রস্থান। মাঠের সবুজ ঘাস থেকে শুরু করে গ্যালারির শেষ প্রান্ত পর্যন্ত, প্রতিটি কোনায় ছড়িয়ে ছিল কেবলই মেসি-বন্দনা।

কান্নায় ভেঙে পড়লেন ফুটবল জাদুকর

ম্যাচ শেষে যখন বিদায়ের বাঁশি বাজল, তখন আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আধুনিক ফুটবলের এই মহানায়ক। যে পায়ে তিনি বছরের পর বছর প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চূর্ণ করেছেন, যে জাদুকরী স্পর্শে বিশ্বকে বুঁদ করে রেখেছিলেন, সেই পা দুটি যেন আজ ভারী হয়ে আসছিল। কান্নাভেজা চোখে যখন তিনি মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন তার সতীর্থদের চোখেও ছিল জলের ধারা। প্রিয় অধিনায়ক, প্রিয় মেন্টরকে বিদায় জানানোর এই দৃশ্য ড্রেসিংরুম থেকে শুরু করে পুরো স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দেয়।

৮৬ হাজার কণ্ঠের গগনবিদারী আর্তনাদ

স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৮৬ হাজার দর্শক শুধু খেলা দেখতে আসেননি, তারা এসেছিলেন ইতিহাসের অংশ হতে। মেসির প্রতিটি পদক্ষেপ, তার শেষবারের মতো মাঠের চারপাশ ঘুরে হাত নাড়ার মুহূর্তে গ্যালারি রূপ নেয় এক কান্নার সমুদ্রে। ব্যানার, ফেস্টুন আর প্ল্যাকার্ডে ছেয়ে যাওয়া গ্যালারিতে একটাই ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল—ধন্যবাদ লিও।

বিশ্বজুড়ে ভারী হলো কোটি ভক্তের নিশ্বাস

মাঠের গণ্ডি পেরিয়ে এই আবেগ আছড়ে পড়েছিল পুরো পৃথিবীতে। এশিয়া থেকে ইউরোপ, আমেরিকা থেকে আফ্রিকা—হাজার হাজার মাইল দূরে বসে থাকা কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী নিজেদের ধরে রাখতে পারেননি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো মুহূর্তেই রূপ নেয় ভার্চুয়াল শোকবইতে। সাধারণ দর্শকদের দীর্ঘশ্বাস আর অশ্রুসিক্ত চোখ প্রমাণ করেছে, মেসি কেবল আর্জেন্টিনার বা কোনো ক্লাবের ছিলেন না, তিনি ছিলেন পুরো ফুটবল বিশ্বের এক আবেগের নাম।

ফুটবল ইতিহাসের পাতায় অনেক বিদায়ের গল্প লেখা আছে, কিন্তু লিওনেল মেসির এই বিদায়গাথা চিরকাল অনন্য হয়ে থাকবে। জমকালো আয়োজন, চোখ ধাঁধানো আলো আর আতশবাজির চেয়েও এই বিদায়কে যা সবচেয়ে বেশি মহিমান্বিত করেছে, তা হলো—মানুষের খাঁটি ভালোবাসা আর কোটি চোখের জল যেখানে বাদ যায়নি মাঠের নিরাপত্তা রক্ষী থেকে সংগীত আয়োজনের মানুষগুলোও। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে জমকালো ও আবেগঘন বিদায়ের সাক্ষী হয়ে আজ সত্যিই এক অলিখিত যুগের সমাপ্তি টানল বিশ্ব।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআর/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!