মেসি বার্সায় যায়নি কেন, হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন জাভি
মেসি ও বার্সেলোনা- ফুটবল বিশ্বের অন্যতম রোমান্টিক এবং সফল এক জুটির নাম। ২০২১ সালে ক্যাম্প ন্যু ছাড়ার সময় চোখ ভিজেছিল মেসির, ক্ষোভ আর হতাশায় পুড়েছিল কোটি সমর্থকের মন। এরপর ২০২৩ সালে মেসির বার্সায় ফেরার গুঞ্জন যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই অবিশ্বাস্যভাবে সেই সম্ভাবনা আলোর মুখ দেখেনি।
ফুটবলপ্রেমীদের মনে এতদিন প্রশ্ন ছিল- কেন নিজের ‘ঘর’-এ ফিরতে পারলেন না এলএম টেন? মেসির অশ্রুসিক্ত বিদায়ের তিন মাস পর বার্সার প্রধান কোচের দায়িত্ব পান সাবেক স্প্যানিশ মিডফিল্ডার জাভি হার্নান্দেজ। এরপরেই আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে ফেরানোর জন্য কোমর বেঁধে নেমেছিলেন কাতালান ক্লাবে এক সময়ের তার সতীর্থ। ২০১০ সালের বিশ্বকাপ জয়ী তারকা বার্সায় কোচ হওয়ায় তাদের সম্পর্ক গুরু-শিষ্যের রূপ নিতে পারতো। কিন্তু মেসিকে ফেরাতে অনিচ্ছুক ছিলেন খোদ ক্লাবের সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা নিজেই।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে সে প্রসঙ্গে জাভি বলেন, ‘মেসি আমার খুব কাছের একজন বন্ধু এবং আমরা সবসময়ই যোগাযোগ রাখতাম। বার্সেলোনায় ফেরার জন্য সে ভীষণ আগ্রহী ছিল। আর আমিও শতভাগ এর পক্ষে ছিলাম। পুরো চার মাস আমরা যোগাযোগের মধ্যে ছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত সভাপতি লাপোর্তা সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি মেসিকে পুনরায় সাইন করাতে চান না। তিনি চান না মেসি বার্সেলোনায় ফিরুক। এটাই আসল সত্য।’
.png)
জাভির বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসিকে বার্সেলোনায় ফেরাতে কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়—উভয় পক্ষই চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিল। যার জন্য টানা চার মাস মেসির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন জাভি। মেসি নিজেও রক্তেভেজা প্রিয় ক্লাবে ফিরতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সভাপতি লাপোর্তার একক সিদ্ধান্তে ভেস্তে যায় পুরো প্রক্রিয়া।
তিনি আরও বলেন, ‘মেসি নিজেও অনেক আশা নিয়ে ছিল, আমি এবং পুরো কোচিং স্টাফও অনেক প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই সভাপতি সবকিছু বাতিল করে দেন। হ্যাঁ, বাস্তবতা এতটাই নিষ্ঠুর ছিল। আর্জেন্টিনা দলকে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জেতানোর ঠিক পরের ঘটনা এটি। এটি বাস্তবায়িত হলে একটি স্বপ্নের অধ্যায় হতে পারত, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়নি। এটি সত্যিই অত্যন্ত আফসোসের।’
এদিকে, গত ৩১ আগস্ট আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন মেসি। যদিও আগামী ৬ অক্টোবর আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিদায়ী ম্যাচ খেলবেন রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মহাতারকা। এ নিয়ে কোনো আভাস জাভি কি পেয়েছিলেন? তার উত্তর, ‘হ্যাঁ, আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হয়। আমার মনে হয় সে বিষয়টি খুব সহজভাবে গ্রহণ করেছে এবং এ নিয়ে শান্তিতেই আছে।’
জাভি আরও যোগ করেন, ‘সে (মেসি) অনুভব করে যে এই অধ্যায়টির সমাপ্তি টানার সময় এসেছে। চার বছর পরের বিশ্বকাপটি তার জন্য সত্যিই অনেক দূরের এবং অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তখন তার বয়স হবে ৪৩ বছর। সময় হলে সরে দাঁড়ানোই শ্রেয়; সে তো ইতোমধ্যে সবই জিতে নিয়েছে—কোপা আমেরিকা, বিশ্বকাপ, সব জায়গাতেই নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা হয়ে গেছে।’