ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

পরিবার বুঝতে চায়নি, তবু এমন সিদ্ধান্ত রিয়াদের  

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১:০৬, ৮ অক্টোবর ২০২৪
পরিবার বুঝতে চায়নি, তবু এমন সিদ্ধান্ত রিয়াদের  
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ

‘যেতে নাহি দিব হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়।’ এই অমোঘ সত্য মেনে নিয়েই আন্তর্জাতিক টি-২০ থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে তার দীর্ঘ ১৭ বছরের পথচলার হতে চলেছে অবসান।    

বাংলাদেশের জার্সিতে সাইলেন্ট কিলার নামে খ্যাত অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার খেলেছেন রেকর্ড ১৩৯ আন্তর্জাতিক টি-২০। সবকিছু ঠিক থাকলে ভারতের সঙ্গে ১৪১ ম্যাচ খেলে ক্যারিয়ার শেষ করবেন। যদিও এই সমাপ্তি রেখা টানার জন্য তার পরিবারের সম্মতি ছিল না।

মঙ্গলবার দিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত সিরিজের দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রিয়াদ। অবসর নিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন প্র্যাকটিস করছিলাম তখন থেকেই চিন্তাভাবনা শুরু করেছিলাম। পরিবারের সাথেও কথা বলেছিলাম। তারা ভাবছিল এটা সঠিক সময় নয়। আমার মনে হয়েছে এটাই সঠিক সময়। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তারপর তারা বুঝতে পেরেছেন। এরপর নির্বাচক ও প্রেসিডেন্টের সাথে, কোচ ক্যাপ্টেনের সাথে কথা বললাম। সবাই আমার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন।

Advertisement

দেশের মাটিতে ঘরের দর্শকদের সামনে অবসর না নেয়ার বিষয়টির স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন রিয়াদ। একইসঙ্গে নিজের সমর্থক ও গণমাধ্যম কর্মীদের তো বটেই, সমালোচকদেরও জানান ধন্যবাদ। 

‘যদি ভাবি বাংলাদেশ থেকে অবসর নেবো, অনেক দেরি হয়ে যাবে। এটা আমার জন্য এবং দলের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত হবে না। আমার মনে হয়েছে এটাই সেরা সময়। আমি বিশ্বাস করি, সিদ্ধান্তটা ভালো হয়েছে।’ 

‘মানুষের দোয়া, ভালোবাসা না থাকলে এতদূর আসতে পারতাম না। গণমাধ্যমসহ সবার সমর্থন ছিল। যারা (আমাকে) পছন্দ করেন না তাদেরও ধন্যবাদ। সবাইকেই ধন্যবাদ।’ 

খেলোয়াড়ি জীবন নিয়ে নিজের অনুভূতি জানানো রিয়াদের ভাষ্য, ‘আমার কোনো আক্ষেপ নেই। বাংলাদেশের হয়ে খেলার সময় কোনো পর্যায়ে কখনই আমার আক্ষেপ ছিল না। আমি সবসময় টিম ম্যান হতে চেয়েছি, যে পজিশনেই খেলি না কেন। আমার দায়িত্ব পালন করতে সচেষ্ট ছিলাম। কোনো আফসোস নেই।’ 

ব্যাটার হিসেবে দলে তার ফিনিশারের ভূমিকা ছিল। সফলতার পাশাপাশি ছিল ব্যর্থতা। নেতিবাচক দিকগুলো মানুষ বেশি মনে রাখা প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, ‘২০১৬ সালের আগে এই ফরম্যাটে আমার গড় ও স্ট্রাইক রেট আহামরি ভালো ছিল না। ২০১৬ সালের বিশ্বকাপ ছিল ভারতে। এখানে আসার আগে খুলনায় একটি প্র্যাকটিস ক্যাম্প করি। সেই ক্যাম্প থেকে আমি ব্যাটিংয়ের ধরণ এপ্রোচ পাল্টানোর চেষ্টা করি। ৬ বা ৭ নম্বরে নামতাম, ঐ জায়গায় ব্যাট করতে আমাকে ধরণ ও স্টাইল বদলাতে হয়েছে।’ 

‘তখন থেকে ফিনিশারের ভূমিকা পালন করেছি। তবে এই জায়গাটা খুব কঠিন। কখনও কখনও ব্যর্থ হবেন। মানুষ সেগুলোই বেশি মনে রাখবে যা ফিনিশ করতে পারবেননি। এটাই ক্রিকেটের অংশ।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/শুভ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!