ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

বর্তমান নিয়ে চিন্তার আহ্বান মুমিনুলের

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৫০, ১৯ আগস্ট ২০২৪
বর্তমান নিয়ে চিন্তার আহ্বান মুমিনুলের
মুমিনুল হক

পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত ১৩টি টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। এর মধ্যে ১২টিতে জিতেছে পাকিস্তান। একটি টেস্ট হয়েছিল ড্র । ২০১৫ সালে খুলনা টেস্ট ড্র করেছিল টিম টাইগার্স। তবে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা মনে না রেখে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা বাদ দিয়ে সতীর্থদের বর্তমানের ভেতর থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মুমিনুল হক।

রাওয়ালপিন্ডিতে ২১ আগস্ট স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটি খেলতে নামবে টিম টাইগার্স। একই ভেন্যুতে ৩০ আগস্ট মাঠে গড়াবে দ্বিতীয় টেস্ট।

চলতি বছর টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৩-২৫ চক্রে ছয়টি টেস্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। পাকিস্তান সিরিজটি দলের গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ করবে কিনা, এ বিষয়ে নিজের পরিষ্কার মতামত দেন মুমিনুল। ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আপনি যদি মোমেন্টামের কথা বলেন তাহলে এর মানে কি আমি প্রথম ম্যাচে খারাপ শুরু করলে পরের ছয় ম্যাচে খারাপ করব? নাকি প্রথম ম্যাচে ভালো শুরু করলে সব ম্যাচেই ভালো করব?

Advertisement

‘অনেকে তাদের ধারাবাহিক গতি যে অবস্থানে রয়েছে, তাতে বিশ্বাস রাখে। কিন্তু আমি তাতে বিশ্বাস করি না। আপনি হয়তো খারাপভাবে শুরু করতে পারেন। কিন্তু যদি প্রত্যাবর্তন করতে না পারেন, তবে আপনি একই দলে থাকবেন, উন্নতি ঘটাতে করতে পারবেন না। তাই আপনাকে এমন ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে নবম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আইসিসির পূর্ণ সদস্যপদ লাভের ২৪ বছর পরেও ফরম্যাটটিতে লক্ষণীয় উন্নতি চোখে পড়েনি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রে টেবিলের তলানিতে আছে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। ৯ ম্যাচে ১ জয়, ৬ হার এবং ২ ড্রয়ে দলটির মোট পয়েন্ট ১২। শতকরা ২৫ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের অষ্টম স্থানে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙার তাগিদটা তাই ভালোভাবেই উপলব্ধি করছেন মুমিনুল।

‘আমি যদি একদিন ভালো করি, তাতে কিছু যায় আসে না। কিন্তু আমি যদি প্রতিদিন তা করার চেষ্টা করি, তাহলে আমার ভালো করার সুযোগ থাকবে। আমি আবার ব্যর্থ হতে পারি কিন্তু তারপর আবারো ভালো করতে পারবো। তাই ধারাবাহিক গতি কোন অবস্থানে আছে, তা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু বাংলাদেশের অনেকেই বিশ্বাস করেন, আমাদের এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। না হলে আমরা অষ্টম দল হয়েই থাকব।’

‘টেস্ট ক্রিকেটে সময়ে সময়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। আপনি যদি সেই পরিস্থিতিকে ধরে রাখতে পারেন, তবে ফিরে আসতে পারেন। যদি প্রতিপক্ষ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে, সেখানে ধৈর্য ধরে খেলতে পারেন। তারপর প্রত্যাবর্তন করতে পারেন। বাকি ফরম্যাটের সঙ্গে টেস্টের এটাই আসল মজা এবং পার্থক্য।’

‘টেস্ট ম্যাচের সময় নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। ধরুন আপনি ১০০ বা ১৫০ রান করলেন এবং হঠাৎ তিন রানের ভেতর তিন উইকেট পড়ে গেল। কিন্তু এরপর মাত্র তিনটি উইকেট হারিয়ে ১৫০-২০০ রান পারলে সেক্ষেত্রে আপনি আবার খেলায় ফিরে আসবেন। তাই আপনাকে এটির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে এবং এভাবেই খেলাটা হয়। আমাদের এভাবেই খেলতে হবে।’

২০২০ সালে করোনা মহামারির আগে পাকিস্তান সফরে দলের অধিনায়ক ছিলেন মুমিনুল। স্বাগতিক পেসারদের বিপক্ষে পুরোনো বল ও রিভার্স সুইংয়ের খেলাটা সবসময়ই বেশ চ্যালেঞ্জিং। যদিও মুমিনুল মনে করেন, আগের বার ব্যাটিং ব্যর্থতাই ছিল ভরাডুবির কারণ।

‘গতবার যখন আমরা সেখানে খেললাম, উইকেট ভালো থাকলেও সত্যিই খারাপ খেলেছিলাম। নতুন বলের চেয়ে পুরোনো বলেই চ্যালেঞ্জ বেশি ছিল। কারণ উইকেট সমতল এবং গরম বেশি থাকায় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হয়। পুরনো বল এবং রিভার্স সুইংয়ের চ্যালেঞ্জটা আলাদা।’

‘সেই সময়ে আমি ভেবেছিলাম, চাইলে উইকেটে টিকে থাকতে পারবো। কিন্তু পুরনো বলেই চ্যালেঞ্জ বেড়ে যায়। একবার বল পুরানো হয়ে গেলে ব্যাটিং উইকেট তখন কঠিন হয়ে যায়। তাই আপনাকে সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পরিসংখ্যান বলছে, ভেন্যুটিতে ব্যাটার ও বোলারদের কারোর একচেটিয়া প্রাধান্য নয়; বরং ভারসাম্যপূর্ণ পিচের জন্য মাঠটি বিখ্যাত। ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামের দর্শকরা সাধারণত ম্যাচজুড়ে ব্যাটার ও স্পিনারদের কার্যকরী হতে দেখে। ম্যাচের শুরুতে নতুন বলে ব্যাটাররা কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন না, স্কোরবোর্ডে রান তোলা সহজই বলা চলে। তবে এবার শোনা যাচ্ছে, পিচে থাকবে ঘাস, তাই হয়ে উঠবে পেস বান্ধব। পেস আক্রমণ সামলানোর জন্য দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের দলে জায়গা পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম, খালেদ আহমেদ ও নাহিদ রানা। 

এ প্রসঙ্গে মুমিনুলের ভাষ্য, ‘আমাদের সবচেয়ে ভালো দিক হল বোলিং বিভাগ ভালো করছে, বিশেষ করে পেস বোলিং। একটি টেস্ট দলের প্রধান স্তম্ভ তাদের বোলিং এবং আমাদের বোলিং আল্লাহর রহমতে সত্যি ভালো। যদি আমরা ভালো ব্যাটিং করতে পারি, তাহলে আমাদের একটি টেস্ট ম্যাচ জেতার সুযোগ আছে। ।’ 

‘আগে আমরা ব্যাটিং ভালো করতাম কিন্তু বোলিং ভালো ছিল না। এখন যেহেতু আমাদের ভালো বোলিং আছে। আমরা যদি ব্যাটিংয়ে আরো ভালো করতে পারি, তাহলে টেস্ট জেতার সুযোগ তৈরি হবে। ’

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএল
ট্যাগ: মুমিনুল হক
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!