ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

[ স্পটলাইট ]

প্রশ্নফাঁসের ক্ষতে প্রলেপ না দিয়েই শুক্রবার পরীক্ষা, বহাল বিতর্কিত কমিটি

নিজেস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৩৯, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রশ্নফাঁসের ক্ষতে প্রলেপ না দিয়েই শুক্রবার পরীক্ষা, বহাল বিতর্কিত কমিটি
ফাইল ছবি


প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে স্থগিত হওয়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা’ পদের প্রিলিমিনারি (বাছাই) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী শুক্রবার। এক্ষেত্রে বিতর্কিত আগের নিয়োগ কমিটিকে বহাল রেখেই চলছে পরীক্ষা নেওয়ার সার্বিক কার্যক্রম। আবার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিটিকে সময় বেধে দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সব মহলেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং পরীক্ষা কমিটির সদস্যদের একাংশ মনে করছেন, পরীক্ষাটি বিতর্কমুক্ত করতে এবং পরীক্ষার্থীদের আস্থা ফেরাতে নিয়োগ কমিটি পুনর্গঠন করা প্রয়োজন ছিল।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল ২৪ মে ২০২৬ তারিখে। আর আবেদনের সময়কাল ছিল ২৩ জুন ২০২৬ পর্যন্ত। ২৪২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন প্রায় ৩ লাখ ১৮ হাজার ৯৭৬ জন প্রার্থী। অর্থাৎ প্রতিটি পদের জন্য এক হাজার ৩১৮ জনের লড়াই।

এই পদে নিয়োগের জন্য গত শনিবার রাজধানীর ৯৮টি কেন্দ্রে প্রিলিমিনারি (বাছাই) পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। পরীক্ষা স্থগিতের খবরে রাজধানীজুড়ে ওই দিন বিক্ষোভ প্রকাশ করেন চাকরিপ্রার্থীরা। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারেরও দাবি জানান।

এরপর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (ফিন্যান্স অ্যান্ড পারফরমেন্স ম্যানেজমেন্ট), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (সিড ফাইন্যান্সিং)। এ ছাড়া কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিবকে (প্রশাসন অধিশাখা) দায়িত্ব দেওয়া হয়। কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হয়। সে হিসেবে গত মঙ্গলবার কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে এবং তারা আরও দুই দিন সময় চেয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান মাহফুজুল আলম খান বলেন, প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য রেকর্ড করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্তের কাজ পুরোপুরি শেষ করতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন হওয়ায় কমিটির পক্ষ থেকে দুই দিন বাড়তি সময় চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে একজন বিশেষজ্ঞকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

একদিকে এখন পর্যন্ত জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি, অন্যদিকে বিতর্কিত আগের নিয়োগ কমিটিকে বহাল রেখেই স্থগিত পরীক্ষা আগামীকাল (শুক্রবার) বেলা তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত নেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এবার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৯৬টি কেন্দ্রে। পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় ভার্চুয়াল মিটিংও করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

জানা গেছে, প্রশ্নফাঁসের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপার স্থানে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পরীক্ষার আগের রাতে সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপা হবে।

প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর পাঁচ সদস্যের বিভাগীয় নিয়োগ কমিটি পুনর্গঠন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিয়োগ কমিটির একাধিক সদস্য জানান, নৈতিকতার জায়গা থেকে কমিটি পুনর্গঠন করা বা নিজেদের সরে দাঁড়ানো উচিত ছিল। কিন্তু তাদের সেই অনুরোধ আমলে নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোতাহার হোসেন বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে এখনই এই কমিটিকে দায়ী করার সুযোগ নেই। এ ছাড়া নিয়োগ কমিটি পুনর্গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নতুন করে কোনো কমিটি গঠনের এখতিয়ার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নেই। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় চাইলে নতুন কমিটি গঠন করতে পারত, তবে তা করা হয়নি।”

মহাপরিচালক আরও উল্লেখ করেন, নতুন পদ্ধতিতে যেভাবে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, তাতে নিয়োগ কমিটির বিশেষ কিছু করার সুযোগ নেই। তবে সরকার চাইলে আগের কমিটি পুনর্গঠন করতে পারত। প্রশ্ন ফাঁসের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর বর্তমান নিয়োগ কমিটি স্বাভাবিকভাবেই সতর্ক থাকবে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, নতুন করে আর কোনো বিতর্ক তৈরি হোক—তা কমিটির সদস্যরাও চাইবেন না।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/বিএম/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!