মাছ থেকে মাছি, সবকিছুই পাঠানো হয় মহাকাশে
চাঁদের মাটিতে প্রথম পা রাখা মানুষ হিসেবে নীল আর্মস্ট্রংকে আমরা চিনি। এরপর যিনি নামেন সেই এডুইন অলড্রিনও সবার চেনা। মহাকাশের এই ইতিহাস আমরা কমবেশি সবাই জানি। তবে অনেকেই জানেন না যে পরীক্ষামূলকভাবে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে একাধিক জীবজন্তুকে। এখন পর্যন্ত সাতটি দেশ মহাকাশে মানুষ ছাড়াও অন্য প্রাণী পাঠিয়েছে। আর সেই তালিকায় মাছি থেকে মাছ সবই রয়েছে।
এক নজরে দেখে নিন কোন প্রানীগুলো মহাকাশে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলো-
.png)
মাছি

১৯৪৭ সালে প্রথম মহাকাশে মাছি পাঠায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কসমিক রশ্মির প্রভাব এবং ভবিষ্যতে নভোচারীদের উপর তার প্রভাব বুঝতে মাছি পাঠানো হয়েছিলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত ভি-টু মিসাইলে মাছি ভর্তি করে ১০৯ কিলোমিটার উচ্চতায় পাঠানো হয়েছিলো। মহাকাশে পৌঁছানোর পর নিউ মেক্সিকোতে নামানো হয় মিসাইলটি। যার ভিতরে অক্ষত অবস্থায় ছিল মাছিগুলো।
কুকুর

১৯৫৭ সালে অন্তরীক্ষ দখলের লড়াই করছিলো তৎকালীন দুই ক্ষমতাশালী দেশ রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে শুরু হয় তীব্র প্রতিযোগিতা। কোন দেশ আগে মহাকাশে কোনো প্রাণীকে পাঠাবে এই লড়াইয়ে রাশিয়া বেছে নেয় পথের কুকুর লাইকাকে। ১৯৫৭-এর ৭ নভেম্বর ছিল রুশ বিপ্লবের ৪০ তম বর্ষপূর্তি। সেই তারিখটাকেই স্থির করা হল রাশিয়ার মহাকাশ-মাইলফলক স্থাপনের জন্য। তার জন্য মস্কোর রাস্তা থেকে বেছে নেয়া হয়েছিলো তিন বছরের স্ত্রী প্রজাতির একটি কুকুরকে। রুশ বিজ্ঞানীদের যুক্তি ছিল, পথের কুকুর হওয়ার কারণে লাইকা কষ্টসহিষ্ণু। অনাহার ও তীব্র ঠান্ডা সহ্য করার ক্ষমতা আছে তার।
এটিই প্রথম কুকুর, যাকে পাঠানো হয়েছিলো পৃথিবীর কক্ষপথে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে লাইকার মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছিলো রাশিয়া। প্রথমে বলা হয়েছিলো, স্পুটনিক-২ তার গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়ার পরও কয়েক দিন জীবিত ছিল লাইকা। কিন্তু, বহু বছর পরে স্বীকার করা হয়, স্পুটনিক-২ লঞ্চ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই মারা গিয়েছিলো কুকুরটি। ১৯৯৩ সালে এই তথ্য প্রকাশ করেন রাশিয়ান স্পেস ডগ ট্রেনার ওলেগ গেজেঙ্কো।
ইঁদুর

ফ্রান্সের প্রথম নভোচারী প্রাণী এই ইঁদুর। তবে মহাকাশে গিয়ে সফলভাবে ফিরে আসতে পারেনি সে। ১৯৫০ সালে মহাকাশে গিয়েছিলো ইঁদুরটি। আকাশে ১৩৭ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছে প্যারাশুটের মাধ্যমে নামানো হয়েছিল এটিকে। তবে সে সময়েই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তার।
শিম্পাঞ্জি

মহাকাশে পৌঁছানো প্রথম শিম্পাঞ্জির নাম ছিল অ্যালবার্ট-২। ১৯৪৯ সালে ১৩৪ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছে এটি। তবে পৃথিবীতে ফিরে আসার সময় মৃত্যু হয় ওই শিম্পাঞ্জির। পরের বছর একই চেষ্টা করা হয় অ্যালবার্ট ১ দিয়ে। তবে তারও মৃত্যু হয়।
মাকড়সা

১৯৭৩ সালে দুটি মাকড়সাকে মহাকাশে পাঠায় আমেরিকা। মার্কিন স্কাইল্যাব যানে করে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিলো দুই স্ত্রী মাকড়সা অ্যারাবেলা ও অনিতাকে। মহাশূন্যে মাকড়সার জাল কীভাবে বুনবে, তা জানতেই এই পরীক্ষা। তবে সে মিশন ব্যর্থ হয়। দুটি মাকড়সারই মৃত্যু হয়। যদিও মৃত্যুর আগে জাল বুনতে সক্ষম হয়েছিলো দুটি মাকড়সাই।
টিকটিকি

মহাকাশে সরীসৃপদের প্রজননে কোনো বাধা আসে কিনা জানতে পরীক্ষা করেছিলো রাশিয়া। সে কারণে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিলো একটি পুরুষ ও চারটি স্ত্রী টিকটিকি। ফোটন এম-৪ স্যাটেলাইটে পাঠানো হয়েছিলো টিকটিকিগুলোকে। তবে সবগুলো টিকটিকিই মারা যায়।
মাছ

শুনতে অবাক লাগলেও মাছও গিয়েছে মহাকাশে। ১৯৭৩ সালে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র উদ্যোগে মহাশূন্যে পৌঁছেছিলো মাছ। তবে অল্প সময়েই মৃত্যু হয় মাছগুলোর। এরপর ২০১২ সালে মহাকাশে মাছ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। জাপানি অ্যাকুরিয়ামে ছিল মাছের জন্য স্বয়ংক্রিয় খাবার দেয়ার পদ্ধতি, পানির ফিল্টার এবং এলইডি আলো।
ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ