কাবা’র গিলাফ ‘কিসওয়া’ পরানো হবে কাল
হজ ইসলাম ধর্মের পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম একটি। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তির জন্য জীবনে একবার হজ করা ফরজ ইবাদত।
মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনই হজ পালনের প্রধান উদ্দেশ্য।
প্রতি বছর হজের এ মৌসুমে ৯ জিলহজ তারিখে বায়তুল্লাহ বা আল্লাহর ঘর পবিত্র কাবা শরিফে স্বর্ণখচিত কোরআনিক ক্যালিগ্রাফির নতুন কালো গিলাফ বা কিসওয়া পরানো হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার কাবা শরিফে নতুন গিলাফ পরানো হবে। সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেট ও গালফ নিউজের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২৪ জুলাই কাবা শরিফের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক শায়খ ড. আব্দুর রহমান আস-সুদাইসি এই ঘোষণা দিয়েছেন।

মক্কার নিকটবর্তী উম্মুল জুদ এলাকায় কাবার গিলাফ তৈরির একটি কারখানা রয়েছে। প্রতি বছরই নির্দিষ্ট সংখ্যক শিল্পী বছরব্যাপী একান্ত শ্রম ও প্রচেষ্টায় এ নতুন গিলাফ তৈরি করে থাকেন।
গিলাফটি খুব টেকসই ও মানসম্মত উপায়ে তৈরি করা হয়। যেন রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট না হয় এবং এতে খাঁটি রেশম ব্যবহার করা হয়। পবিত্র কাবার কালো গিলাফকে ‘কিসওয়া’ বলা হয়। গিলাফের বাইরের কালো কাপড়ে স্বর্ণমণ্ডিত রেশমি সুতা দিয়ে দক্ষ কারিগর দিয়ে ক্যালিগ্রাফি করা হয়। গিলাফে পবিত্র কোরআনের আয়াত শোভা পায়, অক্ষরগুলো সোনালি আভায় উদ্ভাসিত। একটি গিলাফ তৈরি করতে ৪৭ টুকরো কাপড় ব্যবহার করা হয়। এতে ১২০ কেজি সোনার সুতা, ৬৭০ কেজি রেশম সুতা ও ১০০ কেজি রুপার সুতা লাগে। গিলাফটির দৈর্ঘ্য ১৪ মিটার এবং প্রস্থ ৪৪ মিটার। কাবার এ গিলাফ তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ২০ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল।
গিলাফ লেখা থাকে যা:
পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ একটি বস্ত্রখণ্ড যা দ্বারা কাবাকে আচ্ছাদিত করে রাখা হয়। বর্তমানে গিলাফ কালো রেশমী কাপড় নির্মিত, যার ওপর স্বর্ণ দিয়ে লেখা থাকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলাল্লাহ’, ‘আল্লাহু জাল্লে জালালুহু’, ‘সুবহানাল্লাহু ওয়া বেহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আযিম’ এবং ‘ইয়া হান্নান, ইয়া মান্নান’।

পুরোনো গিলাফকে টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাষ্ট্রপ্রধানদের উপহার হিসেবে দেয়া হয়।
যে বিষয়টি আমাদের জানা জরুরি:
তাওয়াফের সময় অনেক হজপালনকারী কাবার গিলাফ স্পর্শ করাকে কল্যাণকর মনে করে থাকেন। যদিও আসলে কাবার গিলাফ স্পর্শ করা বা এটা ধরে দোয়া-মোনাজাত করার আলাদা কোনো ফজিলত নেই। তার পরও দেখা যায়, অনেক হজপালনকারী কাবাঘরের দেয়াল স্পর্শ করতে এমনকি তাতে নিজের রুমাল, জামা কাপড় স্পর্শ করাতে। যদিও ধর্মীয় চিন্তাবিদরা এমন কাজ করা থেকে মানুষকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
শায়খ ড. আব্দুর রহমান আস-সুদাইসি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ১৬০ জন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ কারিগর ও প্রযুক্তিবিদ পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ পরানোর কাজে অংশগ্রহণ করবেন। প্রতি বছর ৯ জিলহজ এ প্রক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
আনুষ্ঠানিকভাবে কাবা শরিফের নতুন গিলাফ ইতোমধ্যেই হস্তান্তর করা হয়েছে। কাবা শরিফ ও মদিনার মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আব্দুল আজিজ বিন আব্দুর রহমান আস-সুদাইসি এ গিলাফ গ্রহণ করেন।