ঢাকা,  শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ ধর্ম ]

ইসলামের দৃষ্টিতে পরিবেশ রক্ষা করাও ইবাদত

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:১৩, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ইসলামের দৃষ্টিতে পরিবেশ রক্ষা করাও ইবাদত
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বজগতের সবকিছুর মালিক মহান আল্লাহ। মানুষ পৃথিবীর সম্পদ ভোগ করতে পারে, তবে তা ধ্বংস করার অবাধ অধিকার কারও নেই। ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃতি ও পরিবেশের সুরক্ষা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়; বরং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এ কাজে অংশ নেওয়া ইবাদতের অংশ হতে পারে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে বনি আদম, তোমরা প্রতি সালাতে তোমাদের বেশভূষা গ্রহণ করো এবং খাও, পান করো ও অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ৩১)

এ আয়াত থেকে অপচয় পরিহারের শিক্ষা পাওয়া যায়। একইভাবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করাও মানুষের দায়িত্ব। পবিত্র কোরআনে আরও বলা হয়েছে, ‘আর জমিনে শান্তি স্থাপনের পর তোমরা সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি কোরো না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ৫৬)

পরিবেশের ক্ষতি মানুষের জীবন ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নদীদূষণ, জলাশয়ে অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলা, অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারে মাটির ক্ষতি করা এবং অবৈধভাবে বনভূমি ধ্বংস করা—এসব কর্মকাণ্ডের ফলে মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই পরিবেশ রক্ষায় সচেতন থাকা এবং ক্ষতিকর কাজ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব।

ইসলাম শুধু মানুষের প্রতি নয়, সব সৃষ্টির প্রতি সদয় আচরণের শিক্ষা দেয়। শাদ্দাদ ইবনে আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক বস্তুর প্রতি সদয় আচরণ করা ফরজ করেছেন।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৪৪০৫)

এই শিক্ষা থেকে বোঝা যায়, প্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি অকারণে নিষ্ঠুর আচরণ করা ইসলামের আদর্শের পরিপন্থী। একই সঙ্গে পরিবেশ ও জীবজগতের উপকারে আসে—এমন কাজের জন্যও ইসলামে সওয়াবের কথা বলা হয়েছে।

আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম গাছ রোপণ করলে কিংবা ফসল ফলালে তা থেকে মানুষ, পাখি বা অন্য কোনো প্রাণী কিছু খেলে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩২০)

এ হাদিসে মানুষের পাশাপাশি পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর উপকারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো কাজের কল্যাণ অন্য জীবের কাছে পৌঁছালেও তা সওয়াবের কারণ হতে পারে।

প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শনের আরেকটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তির ঘটনা বর্ণনা করেছেন, যিনি তীব্র পিপাসায় কাতর একটি কুকুরকে কূপ থেকে পানি তুলে পান করিয়েছিলেন। এ কাজের জন্য আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তাঁকে ক্ষমা করেন। সাহাবিরা জানতে চাইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীর উপকার করাতেই পুণ্য রয়েছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩৬৩)

তবে জনস্বাস্থ্য ও মানুষের নিরাপত্তার প্রয়োজনে ক্ষতিকর প্রাণী নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণের সঙ্গে অকারণে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণকে এক করে দেখা যাবে না। ইসলামের শিক্ষা হলো, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রেও যথাসম্ভব দয়া ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা।

প্রকৃতি রক্ষায় প্রত্যেক মুমিনেরই সামর্থ্য অনুযায়ী ভূমিকা রাখা উচিত। অপ্রয়োজনে পানি ও বিদ্যুতের অপচয় বন্ধ করা, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা, গাছ লাগানো ও পরিচর্যা করা, জলাশয় দূষণ থেকে বিরত থাকা এবং পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনসম্মতভাবে সচেতনতা তৈরি করার মাধ্যমে এ দায়িত্ব পালন করা যায়।

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়তে মানুষ, প্রাণী ও প্রকৃতির কল্যাণে কাজ করা নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তাই ইবাদতের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হওয়া এবং পৃথিবীকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য রাখার চেষ্টা করা প্রত্যেকের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং তাঁর সৃষ্টির প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!